বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের অভ্যঞ্জন খ্রীষ্টযাগ
গত ৩১মার্চ ২০২৬, বেলা ২.৩০ মি.তপস্যাকালের বিশেষ অঙ্গ ক্রিসম মাস তথা পবিত্র অভ্যঞ্জন খ্রীষ্টযাগ শুরু হয়। বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের প্রায় ৭৭ জন পুরোহিত এই তেল আশীর্বাদ ও যাজক দিবস উপলক্ষে সমবেত হন।
ঘন্টাধ্বনি সহকারে পুরোহিতগণ সারিবদ্ধ ভাবে গির্জাঘরে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসন গ্রহণজ করেন। ধর্মপল্লীর তরুণীরা আরতিও চন্দনের টিকা পরিয়ে প্রধান পুরোহিত বিশপ শ্যামল ওপ্রাক্তন বিশপ লোবোকে বরণ করে নেয়। এরপর বাইবেল আরতি শেষ হলে মূল খ্রীষ্টযাগ শুরু হয়। ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার তুষার অগস্টিন দিনের তাৎপর্য পাঠ করেন। খ্রীষ্টযাগে পৌরহিত্য করেন মাননীয় ধর্মপাল শ্যামল বোস।সহযোগিতা করেন প্রাক্তন বিশপ ওপ্রাক্তন পাল পুরোহিত ফাদার সান্তানাম ও ভিকার জেনারেল ফাদার কনৌজ রায়।
উপদেশে বিশপ মহোদয় বিশেষ ভাবে যাজক দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোকপাত করেন। যাজক জীবনের গুরুত্ব ও দায়িত্ব তিনি বিশেষ ভাবে স্মরণ করান। পল্লীবাসীদের ধর্মবিশ্বাস ও একতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট হওয়ার আবেদন জানান।যাজক জীবনের পবিত্রতা,সংযম বজায় রাখার জন্য সাধারণ ভক্ত বৃন্দদের, তাঁদের জন্য সবসময় প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।
এরই মাঝে একে একে দীক্ষাস্নান তেল,অভ্যঞ্জন তেল ও রোগী লেপন তেল বেদীতে এনে বিশেষ আশীর্বাদ করা হয়। তেল গুলির বিশেষত্ব তুলে ধরা হয়।
অভ্যঞ্জন খ্রীষ্টযাগের বৈশিষ্ট্য হল সম্মিলিত ভাবে যাজকদের শপথ উচ্চারণ ও পরস্পর শান্তি প্রদর্শনের সময় বিশপ মহোদয়ের বেদী থেকে নেমে এসে সকল পুরোহিতের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলিঙ্গন ও শুভেচ্ছা প্রদর্শন খুব ই ভাল দৃষ্টান্ত।
যাজক,অনুযাজক,ব্রতধারী নরনারীও সাধারণ ভক্ত মিলিয়ে প্রায় ১২০০ জন খ্রীষ্টযাগে উপস্থিত ছিল। খ্রীষ্টযাগের শেষে সকলের জন্য চা ও জলখাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
খ্রীষ্টযাগে কয়ারের সুন্দর গান পরিবেশন ও ফাদার তুষারের সাবলীল সঞ্চালনা বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল। প্রতিবেদন – চন্দনা রোজারিও।