কৃতজ্ঞতা ও আনন্দে বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের বার্ষিক সভা ও রুবি জয়ন্তী উদযাপন

বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজক ভ্রাতৃসংঘের ৪০ বছরের রুবি জুবিলি

গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকার তেজগাঁও পবিত্র জপমালা রানী র্গীজায় মহাসমারোহে ও ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভীযের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজক ভ্রাতৃসংঘের ৪০ বছরের রুবি জুবিলি। এই অনুষ্ঠানে প্রার্থনা, কৃতজ্ঞতা ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে যাজকীয় সেবার দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণ করা হয়।

বার্ষিক সাধারণ সভা ও জুবিলির মূলভাব ছিলো ‘ভ্রাতৃপ্রেমের উৎসব: মিলন একতা এবং যাজকীয় প্রেরণ সেবাকর্মে বৃদ্ধিলাভ’।

আরো উল্লেখ ৫ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রমনা বিশপ হাউজে যাজকদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এই সভায় যাজকগণ নিজের জীবন পর্যালোচনা আলোচনা, স্মৃতিচারণ করেন এবং,  সেই সাথে প্রথমবারের মতো এই বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়া নবভিষিক্ত যাজকদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত এই বার্ষিক সভায় বর্তমান সময়ে যাজকীয় জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উত্তম মেষপালক যিশু খ্রিস্টের আদর্শ প্রেম ক্ষমা ও ভালোবাসায় নিজেদের আরও বিনম্রভাবে পালন করার আহব্বান জানানো হয়।

জুবিলি উৎসবের দিনে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে,বাংলাদেশ ধর্মপ্রদেশীয় যাজক ভ্রাতৃসংঘের (বিডিপিএফ) এর সভাপতি ফাদার মিন্টু লরেন্স পালমা বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মপ্রদেশীয় যাজকদের এই ভ্রাতৃসংঘ গড়ে তোলা মোটেও সহজ ছিল না। নানা চ্যালেঞ্জ, বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজ আমরা এই ভ্রাতৃসংঘের রুবি জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মণ্ডলীর যাজকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এবং বিশপগণের সহযোগিতা ও পরামর্শের মধ্য দিয়ে আজও আমরা একটি পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ আছি। এই ঐক্য ও সংহতির মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক একাত্মতা, সহভাগিতা, আন্তরিক পরামর্শ এবং সর্বোপরি ঈশ্বরের আশীর্বাদ।

মূলভাবের আলোকে বিশপ জের্ভাস রোজারিও তাঁর আলোচনায় যাজকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আজ আমাদের এই মিলন যেন কেবল একটি দিনের উৎসব কিংবা আনুষ্ঠানিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা আমাদের প্রতিদিনের যাজকীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও জীবনযাপনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।

 তিনি আরো বলেন “আমরা যেন এমন একটি যাজকীয় পরিবার গড়ে তুলতে পারি, যেখানে কেউ নিজেকে একা মনে করবে না; বরং প্রত্যেকে একে অপরের মধ্যে খ্রিস্টের উপস্থিতি অনুভব করবে। যেখানে আনন্দ হবে সহভাগিতার, দুঃখে থাকবে সান্ত্বনা ও সমবেদনা, ভুলের ক্ষেত্রে থাকবে ক্ষমাশীলতা, আর প্রভুর সেবায় সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি ও সাহস জোগাবে।

পবিত্র খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও এবং উপদেশ প্রদান করেন বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও। এছাড়া মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভাটিকান রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ ক্যাভিন এস. রাণ্ডালসহ অন্যান্য ধর্মপ্রদেশের বিশপগণ ও   উপস্থিত ছিলেন।

উপদেশ বাণীতে বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও বলেন, “ধর্মপ্রদেশীয় যাজক সেই যিশুকে অনুসরণ করেন যে যিশূ বলেছিলেন আমি উত্তম মেষপালক এবং মণ্ডলীর মস্তক, এবং সেই উত্তম মেষপালকের হৃদয়ে পালকীয় প্রেম সেবা যত্নের মতো এই যাজকগণও স্থানীয় মণ্ডলীতে তাদের সেবা প্রদান করেন।”

ধর্মপ্রদেশীয় যাজক একজন জনপদের যাজক। তারা কষ্টভোগী যিশুর শিষ্য বা অনুসরণকারী। একজন যাজকের সাফল্যে অন্য যাজক আনন্দিত হবেন, একজনের দুঃখে অন্যজন পাশে দাঁড়াবেন এবং একজন দুর্বল হয়ে পড়লে অন্যজন তাঁকে শক্তি জোগাবেন এটাই প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্ব। আমাদের মনে রাখতে হবে, যাজকীয় ভ্রাতৃত্ব শুধু সভা, সম্মেলন কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেবাকর্মে প্রতিফলিত হতে হবে।

উক্ত এই জুবিলি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশর বিশপগণ এবং যাজকগণ প্রায় ২০০ জনের বেশি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া খিস্টযাগে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ,সেমিনারিয়াণগণ এবং স্থানীয় খ্রিস্টভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন।

 পবিত্র খ্রিস্টযাগ শেষে তেজগাঁও কমিউনিটি চার্চ সেন্টারে বিডিপিএফ- এ বিভিন্ন সময়ে সেবাদানকারী যাজকদের কৃতজ্ঞতার চিন্হ সরুপ সন্মাননা প্রদান করা হয়। - আরভিএ সংবাদ ।

 

Bengali pop up image