মালয়েশিয়ার ক্যাথলিক নার্সকে সাধু ঘোষণার আহ্বান
গত ১৫ আগষ্ট কুয়ালালামপুর মহাধর্মপ্রদেশের পেতালিং জায়ার সাধু ইগসাশিয়াস গির্জায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিটজেরাল্ড আগষ্টিন মালয়েশিয়ায় যুদ্ধকালীন আত্মত্যাগে ক্যাথলিক নার্স সিবিলের জীবনবৃতান্ত নিয়ে আলোচনা করে তাকে সাধুশ্রেণী ঘোষণার আহ্বান করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিটজেরাল্ড আগষ্টিন উল্লেখ্য করেন যে, যুদ্ধচলাকালীন সময়ে খ্রিস্টের প্রতি তার সুগভীর বিশ্বাসের জন্য তার কারাবাস, নির্যাতন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকির মধ্যেও দৃঢ় থাকার শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে।
এছাড়া তিনি সিবিলের আধ্যাত্নিক জীবন নিয়ে বেশ কয়েকবার অন্যান্য যাজকদের সাথেও আলোচনা করেন। তার এই সহভাগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো সিবিলকে তার উদার এবং মহৎ কাজের জন্য সাধু শ্রেনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে খ্রিষ্টিয় সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত এই উদ্যোগের সাথে রয়েছেন কুয়ালালামপুরের আর্চবিশপ জুলিয়ান লিও। তিনি ফিটজেরাল্ড আগষ্টিনকে সিবিলের মধ্যস্ততায় সংঘটিত যে কেন অলৌকিক ঘটনা এবং সাক্ষ্যসমূহ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন যেন সিবিলের সাধূ শ্রেণী প্রক্রিয়া করণের কাজ সুষ্ঠ ভাবে সংঘটিত হতে পারে।
উল্লেখ্য , পেনাংয়ের কার্ডিনাল সেবাস্তিয়ান ফ্রান্সিস ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সিবিলের সাধুশ্রেণীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি ক্যাথলিক খ্রিষ্ট বিশ্বাসীদের সিবিলের বিশ্বাস, সাহস ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের সাক্ষ্য নিয়ে ভাবতে এবং তাঁকে ‘ঈশ্বরের সেবক’ (Servant of God) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছেন।
কিন্তু জাপানি বাহিনী যখন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করতে তৎপর হয়ে ওঠে, তখন সিবিলের সামনে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু অন্যদের বিপদে ফেলে নিজে পালিয়ে যেতে তিনি রাজি হননি। ১৯৪৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও প্রতিরোধ যোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে অন্যরা আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।
১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপান আত্মসমর্পণ করা পর্যন্ত সিবিল কারাগারে ছিলেন। এই সময় জাপানি সামরিক পুলিশ কেম্পেইতাই তাঁকে কঠোর নির্যাতন করে। কিন্তু নির্যাতনের পরও তিনি যাঁদের সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
সিবিলের জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৪৩ সালের ১৭ নভেম্বর। তাঁকে তথ্য দেওয়াতে বাধ্য করার জন্য তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে ডন-কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সেই সময় সিবিল তাঁর মেয়ের জন্য ভার্জিন মেরিয়ার কাছে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে ছোট্ট ডন তাঁর মাকে সাহসী থাকতে এবং অন্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা না করতে উৎসাহ দেয়।
কারাগারেও সিবিল নিয়মিত প্রার্থনা করতেন। তিনি জপমালা প্রার্থনা করতেন, ক্রুশের পথ অনুসরণ করে প্রার্থনা করতেন এবং বিভিন্ন ধর্মের বন্দিদের একত্র করে প্রার্থনা করতেন।
১৯৪৮ সালের জুনে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে সিবিল মৃত্যুবরণ করেন। কারাবাসের সময় নির্যাতনের ফলে যে আঘাত পেয়েছিলেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত সেপটিসেমিয়া-তে তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৪৭ সালে তাঁর সাহস ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে জর্জ মেডেল প্রদান করা হয়। বর্তমানে ইপোহর সেন্ট মাইকেলস র্গিজার কবরস্থানে তিনি সমাহিত আছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি মাসের ১২ তারিখে একটি প্রার্থনা দল তাঁর সমাধিতে সমবেত হয়ে তাঁর সাধুত্বের প্রক্রিয়ার জন্য প্রার্থনা করছে।
সিবিল ক্যাথিগাসুর জীবন শুধু তাঁর সহ্য করা নির্যাতনের জন্য স্মরণীয় নয়; বরং অন্যদের রক্ষা করতে নিজের জীবন ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার সিদ্ধান্তের জন্যও তিনি স্মরণীয়। - আরভিএ সংবাদ।
