এ বছর রমজান ও প্রায়শ্চিত্তকালের একসাথে যাত্রায় : “এশিয়ার ধর্মীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শান্তি স্থাপনের আহ্বান ”

 আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খিস্টাব্দ ,এই প্রথমবারের মতো মুসলমান ভাইবোনদের পবিত্র রমজান এবং খ্রিস্টানদের প্রায়শ্চিত্তকাল একই সাথে শুরু হতে যাচ্ছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক পৌরিত্যিক পত্রের উপর ভিত্তি করে দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের, বিশপ জোশ কলিন বলেন এটা কোন কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে নয় বরং একটা যৌথ দায়িত্বের আহ্বান হিসেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন শান্তি স্থাপন শুধু প্রার্থনার বিষয় নয় বরং এটা জীবনে বাস্তবায়ন এবং অর্জনের বিষয়।

তিনি আরো বলেন যে এই যাত্রা একটা আধ্যাত্নিক এবং আর্শীবাদ লাভের যাত্রা। অস্থির সংকটময় এই বিশ্বে তিনি সকল খ্রিস্টবিশ্বাসীদের মানসিক স্থিরতা  লাভের জন্য এবং ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রেখে তার দিকে ফিরে গিয়ে মন পরির্বতনের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য পবিত্র রমজান এবং প্রায়শ্চিত্তকাল, প্রার্থনা ,রোজা ,দয়া ও অনুতাপের সময়।তবে  ধর্মীয় পাথ্যর্কের কারন থাকলেও উভয় ধর্মই আত্নসংযম ও দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতার উপর গুরুত্বারোপ করে। 

এছাড়া তিনি পবিত্র বাইবেল এবং ইসলাম ধর্মগ্রন্থ থেকে কিছু উদ্ধৃতি নিয়ে  শান্তিকে তিনি উভয় ধর্মের প্রধান মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরেছেন।সেখানে তিনি যিশুর শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীদের জন্য আর্শীবাদ এবং কুরানে উল্লেখিত মানবজাতিকে “শান্তির গৃহে” প্রবেশের কথা উল্লেখ করেন।

এছাড়া এই পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে,শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়,বরং ঈশ্বর,মানুষ এবং সৃষ্টির সাথে সুসর্ম্পক স্থাপনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ।

আমরা যেমন পরিবেশ ধ্বংস করি তেমনি যুদ্ধ বিগ্রহ আমাদের শান্তিকে নষ্ট করে। তিনি পোপ ফ্রান্সিসের “লাউদাত্তে সি” এবং “ফাতেল্লী তুত্তি” এর উক্তি উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষা এবং যত্নের প্রতি আগ্রহী হতে আহ্বান জানান এবং সামাজিক ন্যায়বিচোরের মধ্যে গভীর সর্ম্পক তুলে ধরেছেন। সেখানে বলা হয়, দরিদ্রদের দুর্ভোগ পৃথিবীর অবক্ষয় একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষায় মানবজাতিরখলিফাবা সৃষ্টির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রায়শ্চিত্তকাল ও পবিত্র রমজান মাসের এই যাত্রায় ধর্মীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আশা প্রকাশ করছেন যেন এই পবিত্র সময়ে রমজান এবং উদারতা যেন শুধু আমাদের কথায় নয় বরং আমাদের  পারস্পারিক আচার- আচরণের মধ্য দিয়ে যেন তা আরো প্রার্থনাপূর্ন হয়ে উঠে। সংবাদ- আরভিএ