রান্নাঘরের পরিচারিকা থেকে ব্রতীয় জীবনে প্রবেশ : বিশ্বাস ও নিবেদনের এক অনন্য যাত্রা

ভারতের পূর্বাঞ্চলের ওডিশার এক ক্যাথলিক পরিবারে সন্তান সিস্টার চন্দ্রিকা প্রধান, যিনি ব্রতীয় জীবনে প্রবেশের র্পূবেকংগ্রেগেশন অব দ্য মাদার অব কারমেল” ,(CMC) সিস্টারদের রান্নাঘরের একজন সাহায্যকারিনী ছিলেন। সেই তিনিই হয়ে উঠলেন (CMC) সংঘের একজন সদস্য।

গত ২৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, কেরেলায় আর ৫৬জন সিস্টারের সাথে তিনি  শেষ ব্রত গ্রহণ করেন। ১৩ জুন ওডিশার কন্ধমাল জেলার নিজ গ্রাম সোমাগোটায় তার উদ্দেশ্যে ধন্যবাদের পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎস্বর্গ করা হয়।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ নভেম্বর, তিনি যোসেফ প্রধান সালমিনা প্রধানের কোলে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ। তিনি পূর্ব ভারতের কটক-ভুবনেশ্বর মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত কন্ধমাল জেলার রাইকিয়া এলাকার আওয়ার লেডি অব চ্যারিটি ধর্মপল্লীর সোমাগোটা গ্রামের বাসিন্দা।

২০১৩ খ্রিস্টাব্দে দশম শ্রেণী পাস করার পরে তার এলাকায় অন্য যুবতীদের সাথে কেরালার এরনাকুলাম জেলার আঙ্গামালিতে একটি কনভেন্টে রান্নাঘরের কাজে সহায়তা করার জন্য যান।তিনি বলেন, কংগ্রেগেশন অব দ্য মাদার অব কারমেল-এর সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় জীবনের আহ্বান উপলব্ধি করতে শুরু করেন।তিনি আরো বলেন  “কংগ্রেগেশন অব দ্য মাদার অব কারমেলের মাদার জেয়া রোজ আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন। ধীরে ধীরে আমি ধর্মীয় জীবনের প্রতি ঈশ্বরের আহ্বান অনুভব করি। এই মূল্যবান আহ্বানের জন্য আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।

২০১৯ সালে তিনি প্রথম ধর্মীয় ব্রত গ্রহণ করেন এবং ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি শেষব্রত গ্রহণ করেন।  

তার শেষব্রতের ধন্যবাদে পবিত্র খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য করেন ফাদার মাইকেল বেহেরা। তিনি তাঁর ধর্মোপদেশে সিস্টার চন্দ্রিকার আহ্বানের যাত্রার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন,“ঈশ্বরের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। তিনি সাধারণ জীবনকে অসাধারণভাবে রূপান্তরিত করতে পারেন। চন্দ্রিকা প্রথমে কেরালায় রান্নার কাজে সহায়তা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে তাঁর জনগণের সেবায় জীবন উৎসর্গ করার জন্য আহ্বান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই অনেক সময় একজন ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত আহ্বান খুঁজে পান।সিস্টার চন্দ্রিকার পিতা জোসেফ প্রধান জানান, প্রার্থনা ধর্মপল্লীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণই তাঁর কন্যার মধ্যে মণ্ডলীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।

তিনি বলেন,“ধর্মপল্লীর কার্যক্রম প্রার্থনায় যত বেশি সম্পৃক্ত হয়েছিল, ততই তার মধ্যে ঈশ্বরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা দৃঢ় হতে থাকে। প্রতিদিনের পবিত্র খ্রিস্টযাগ, ব্যক্তিগত প্রার্থনা এবং সিস্টারদের উৎসাহ তাকে তার আহ্বান বুঝতে সাহায্য করেছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যের সেবার অভিজ্ঞতা তার মধ্যে ধৈর্য, বিনয়, উদারতা ভালোবাসার মতো গুণাবলি গড়ে তুলেছিল, যা ধর্মীয় জীবনে প্রবেশের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কংগ্রেগেশন অব দ্য মাদার অব কারমেল (CMC) ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ ফেব্রুয়ারি কেরালার কোচির নিকটবর্তী কুনাম্মাভুতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ভারতীয় সাধু কুরিয়াকোস এলিয়াস চাভারা এবং ইতালীয় কারমেলাইট মিশনারি ফাদার লিওপোল্ড বেক্কারো। এটি ছিল সিরো-মালাবার মণ্ডলীর প্রথম দেশীয় নারী ধর্মীয় সংঘ।

তবে বর্তমানে এই সংঘের প্রায় ,০০০ সিস্টার এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ওশেনিয়ার ১৯টি দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক উন্নয়ন, পালকীয় কাজ এবং বিভিন্ন প্রেরিতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।

বর্তমানে সিস্টার চন্দ্রিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে সেবাকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। - আরভিএ সংবাদ