চড়াখোলা গ্রামে উদযাপিত হলো গির্জার প্রতিপালিকা স্বর্গোন্নীতা রাণী মারীয়া’র পর্ব উৎসব
গত ১৪ ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর চড়াখোলা গীর্জার প্রতিপালিকা স্বর্গোন্নীতা রাণী মারীয়া’র পর্ব উৎসব উদযাপন।
খ্রিস্টভক্তদের আধ্যাত্নিক প্রস্তুতির পর এই পর্বদিবস উদযাপন করা হয়। এতে বিশপ, ফাদার, ডিকন, ব্রাদার, সিস্টার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত খ্রীষ্টভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
মা মারীয়া যিশুর মা। যিশু ক্রুশে থেকে মা মারীয়াকে আমাদেরও মা করে রেখে গিয়েছেন। মা মারীয়ার মধ্যস্থায় আমরা যখন ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করি ঈশ্বর তখন আমাদের প্রার্থনা পূরণ করে দেন।
এই পর্বীয় খ্রীষ্টযাগ উৎসর্গ করেন সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ । তিনি তার উপদেশ বাণীতে মারিয়ার স্বর্গে আরোহন উপলক্ষ্যে মার প্রতি আমাদের যে বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন তার উপর উপদেশ বাণী রাখেন।
তিনি বলেন, “ঈশ্বর তাকে রেখে গিয়েছিলেন তার পুত্রের মা হওয়ার জন্য। শুধু তার পুত্রের মা হওয়ার গুণেই নয়, তিনি তার বিশ্বাসের গুনে পবিত্রতার গুনে, শুধু আত্মাই নয়, স্বশরীরে তাকে উন্নিত করেন।”
“আমরা মা মারিয়ার জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই তার জীবন ছিল সম্পূর্ণ ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত। যখন তাকে বলা হয়েছিল তিনি মুক্তি দাতার মা হবেন তিনি বলেছিলেন হ্যাঁ আপনার কথা মতোই আমার গতি হোক। ঈশ্বর যা চেয়েছিলেন তা আমার জীবনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পাক। তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছাকে পরিপূর্ণভাবে হ্যাঁ বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের একটু চিন্তা করা উচিত আমাদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছা কি? আমরা কিভাবে তা পরিপূর্ণ করব,” বলেন বিশপ গমেজ।
তিনি আরো বলেন, “মা মারিয়া ছিলেন অন্যের সেবায় নিবেদিতা। তিনি ঈশ্বরের আহবানে সাড়া দিয়ে তার পুত্রকে লালন পালন করে সেবা দিয়েছেন। আমরা সকলে নিজের সেবা করি, আত্মসেবা করি, পরিবারের সেবা করি, কিন্তু কতটুকু আমরা ঈশ্বরের সেবা করছি? আমরা যেন ভক্তি ভরা অন্তর নিয়ে মা মারিয়ার মধ্যস্থতায় প্রার্থনা করি।” বলেন বিশপ।
খ্রীষ্টযাগ শেষে তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। - প্রাঞ্জল টমাস রোজারিও
