‘ডিজিটাল জগতকে নিজের মূল্যায়ন করতে দেবেন না’: কোরিয়ান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

‘ডিজিটাল জগতকে নিজের মূল্য নির্ধারণ করতে দেবেন না’: কোরিয়ান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ

ম্যানিলা: অনলাইন জনপ্রিয়তা, ফলোয়ারের সংখ্যা কিংবা ডিজিটাল উপস্থিতিকে যেন তরুণরা নিজেদের মূল্য নির্ধারণের মাপকাঠি না করে তোলে—এমন আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. আন্না জিহিউন ইউ।

এশিয়ার প্রথম ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি সমাবেশের আগে রেডিও ভেরিতাস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ডিজিটাল জগতকে আপনার মূল্য নির্ধারণ করতে দেবেন না।” তাঁর মতে, অ্যালগরিদম, তুলনা এবং অনলাইনে নিজেকে প্রমাণ করার চাপের মধ্যেও তরুণদের নিজেদের পরিচয় ও মানবিক মর্যাদার গুরুত্বকে খুঁজে পেতে হবে।

“ইনফ্লুয়েন্সার থেকে সাক্ষী: এশিয়ায় ডিজিটাল মিশনের সিনোডাল যাত্রা”(Influencers to Witnesses: Synodal Way for Digital Mission in Asia) এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বিগত ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনে রেডিও ভেরিতাস এশিয়ায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন ক্যাথলিক ডিজিটাল যোগাযোগকর্মী ও ইনফ্লুয়েন্সার এতে অংশ করবেন

ড. ইউ বলেন, সাক্ষী হতে হাজার হাজার ফলোয়ার বা নিখুঁতভাবে অনলাইন উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। একটি আন্তরিক কথোপকথন কিংবা সহানুভূতিশীল উপস্থিতিও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে। তাই ডিজিটাল মিশনারিদের মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশলের পরিবর্তে প্রার্থনা, মন দিয়ে শোনা এবং খ্রীষ্টের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তাঁদের যাত্রা শুরু করা উচিত।

শিষ্যচরিতের ৪:২০ পদ থেকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেরিতরা কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি বা জনপ্রিয়তার জন্য কথা বলেননি; তাঁরা যা “দেখেছেন ও শুনেছেন”, তার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৯৪.৫ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কোরিয়ান ইতিমধ্যে কোনো না কোনো এআই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন। অথচ কোরিয়ান বিশপদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ১৫.৫ শতাংশ কোরিয়ান ক্যাথলিক রবিবারের মিশায় অংশ গ্রহণ করেন এবং পাশাপাশি, ক্যাথলিক জনসংখ্যার মধ্যেও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

এই বাস্তবতাকে ড. ইউ বলেন, “৯৪ শতাংশ সংযুক্ত, কিন্তু উপস্থিত মাত্র ১৫ শতাংশ”—এটাই আমাদের প্রজন্মের পালকীয় প্রশ্ন।

তাঁর মতে, মন্ডলীর লক্ষ্য শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি ক্যাথলিক বিষয়বস্তু ছড়ানো নয়; বরং এমন একটি মানবিক উপস্থিতি তৈরি করা, যা প্রযুক্তি একা দিতে পারে না। তাই “আমাদের কাছে আসুন” থেকে “আমরা আপনার সাথে আছি এবং আপনার সঙ্গে পথ চলবো”—এই পালকীয় পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

জেনারেটিভ এআই-এর যুগে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তি একটি বার্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, কিন্তু সহানুভূতি, মানবিক স্পর্শ এবং সততার সঙ্গে যাপন করা জীবনকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে পারে না।

World Youth Day Seoul 2027-এর দিকে তরুণদের ডিজিটাল যাত্রায় উৎসাহিত করে এবং ধন্য কার্লো আকুতিসের কথা স্মরণ করে ড. ইউ বলেন, ইন্টারনেট যেন বিচ্ছিন্নতার জায়গা না হয়ে সত্যিকারের মিলন, সহানুভূতি, গুরুত্ব সহকারে শ্রবণ এবং বিশ্বাসের উষ্ণতা অনুভব করার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদন - রেডিও ভেরিতাস এশিয়া

অনুবাদ - তেরেসা রোজারিও

Bengali pop up image