ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের তুইতাল ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পরিবার সুরক্ষা ও জীবিকা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার
গত ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সমন্বিত মানব উন্নয়ন বিস্তার কমিশনের আয়োজনে পবিত্র আত্মা গির্জা তুইতালে অনুষ্ঠিত হলো পরিবার সুরক্ষা ও জীবিকা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনার।
এই সেমিনারের মূলসুর ছিল “আসুন, যত্নের-সংস্কৃতি বিস্তার করি”। এতে আঠারোগ্রাম অঞ্চলের চারটি ধর্মপল্লী থেকে আগত প্রায় ১২০জন খ্রিস্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্সিনিয়র গাব্রিয়েল কোড়াইয়া, ফাদার লিটন এইচ. গমেজ, সিএসসি এবং মি. ডমিনিক রঞ্জন পিউরিফিকেশন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কাক্কো লি.।
এই সেমিনার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো খ্রিস্টীয় পরিবারকে আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করে গড়ে তোলা।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রধান অতিথি মন্সিনিয়র গাব্রিয়েল কোড়াইয়া বলেন, “পরিবার হচ্ছে চার্চ ও সমাজের মূল ভিত্তি। তিনি প্রত্যেক পরিবারকে প্রার্থনা, পারস্পরিক ভালোবাসা, ক্ষমাশীলতা এবং দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।”
ফাদার লিটন এইচ. গমেজ, সিএসসি তার সহভাগিতায় পারিবারিক প্রার্থনা, ধর্মীয় জীবন, ক্ষমাশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ চর্চার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, অভিবাসন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি এবং পরিবারে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
“আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও জীবিকা উন্নয়ন” বিষয়ে সহভাগিতা করেন ডমিনিক রঞ্জন পিউরিফিকেশন। তিনি পারিবারিক বাজেট, সঞ্চয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিকল্প আয়, সমবায় ও ক্রেডিট ইউনিয়নের ভূমিকা এবং টেকসই জীবিকা বিষয়ে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময়ের সময় তাঁদের পারিবারিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে সন্তানের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।
এই দিনব্যাপী সেমিনারটি অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা পরিবারে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, দায়িত্বশীলতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ।
অংশগ্রহণকারীগণ আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের খ্রিস্টীয় পরিবারগুলোকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। - ফাদার লিটন এইচ. গমেজ, সিএসসি