পরিবর্তনশীল এশিয়ায় বিশ্বাস গঠনে এফএবিসি'র শিক্ষা ও বিশ্বাস গঠন দপ্তরের উদ্যোগ
আগামী ২০ থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য এফএবিসি'র দ্বাদশ প্লেনারি সন্মেলনকে সামনে রেখে শিক্ষা ও বিশ্বাস গঠন দপ্তর, এশিয়াজুড়ে বিশ্বাস গঠন, নবায়িত ধর্মশিক্ষা এবং ক্যাথলিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
পূর্বে Office of Education and Student Chaplaincy (OESC) নামে পরিচিত এই দপ্তরটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশপ সম্মেলনের শিক্ষা ও ধর্মশিক্ষা কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্বাস গঠন, ধর্মশিক্ষার নেতৃত্বের বিকাশ এবং শিক্ষা দফতরকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া স্থানীয়মণ্ডলীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এফএবিসি'র সিনোডাল লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, (OESC) নামে পরিচিত এই দপ্তরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা ও ধর্মশিক্ষা বিষয়ক বহু সম্মেলন ও সেমিনারের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত প্যান-এশিয়ান ক্যাটেকেসিস সম্মেলনের পর প্রকাশিত ‘A Renewed Catechesis for Asia: Towards the Year 2000 and Beyond’ দলিলটি এশিয়ায় নবায়িত ধর্মশিক্ষার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপরে এক দশকেরও বেশি সময় পরে, ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে "Family Catechesis: Challenges from Asian Realities" শীর্ষক মত বিনিময় সভার আয়োজন করে এফএবিসি'র শিক্ষা ও বিশ্বাস গঠন দপ্তর। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এফএবিসি'র অষ্টম প্লেনারি অ্যাসেম্বলির "The Family in Asia" বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতায় এই সভায় পরিবর্তনশীল এশীয় সমাজে পরিবারকে কীভাবে বিশ্বাস গঠন ও বিশ্বাস হস্তান্তরের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
২০২২ খ্রিস্টাব্দে, এফএবিসি'র শিক্ষা ও বিশ্বাস গঠন দপ্তর (OEFF) ‘Antiquum Ministerium’ বিষয়ক এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করে, যেখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১০৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এই সভায় প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের আহ্বান অনুযায়ী সাধারণ বিশ্বাসীদের ক্যাটেকিস্ট (ধর্মশিক্ষক) হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
ওইএফএফ এশিয়ায় ধর্মশিক্ষার জন্য আটটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—এশিয়ার বাস্তবতাভিত্তিক ধর্মশিক্ষা, সংলাপের চর্চা, এশীয় যিশুর পরিচয় তুলে ধরা, পরিবার ও তরুণদের গুরুত্ব দেওয়া, নারীর অবদানকে স্বীকৃতি, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বাস গঠন এবং সৃষ্টিজগতের যত্ন নেওয়া। এসব অগ্রাধিকার ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ব্যাংকক ডকুমেন্টে উল্লেখিত এফএবিসি'র যাজকীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাকার্তায় অনুষ্ঠিতব্য এফএবিসি'র প্লেনারি অ্যাসেম্বলিকে সামনে রেখে দপ্তরটি বিশ্বাস গঠন, ধর্মশিক্ষার নবায়ন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এশিয়ার মণ্ডলীকে আরও কার্যকর ও সাক্ষ্যবাহী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।- আরভিএ সংবাদ