কলিমনগর পবিত্র পরিবার ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পালকীয় সম্মেলন

খ্রিস্টভক্তদের অংশগ্রহণে পবিত্র পরিবার ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো পালকীয় সম্মেলন

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, কলিমনগর পবিত্র পরিবার ধর্মপল্লীর খ্রিস্টভক্তদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ধর্মপল্লীর পালকীয় সম্মেলন।

পালকীয় সম্মেলনের মূলসুর ছিল,  “খ্রিস্টবিশ্বাসে আমরা প্রেরিত: “হায়রে আমি যদি মঙ্গলসমাচার প্রচার না করি” ( করিন্থিয় :১৬) এতে ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত, সহকারী পাল পুরোহিতসহ জন ফাদার, জন সিস্টার, জন সেমিনারীয়ান, ধর্মপল্লীর পুরুষ-মহিলা, যুবক যুবতীসহ প্রায় ১২০ জন অংশগ্রহণ করেন।

ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার লিটন ডমিনিক কস্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে শুভেচ্ছা প্রদান করে বলেন, “আমাদের পরিবারগুলোতে আমরা কি ভাবে মঙ্গলসমাচার প্রচার করতে পারি সেই বিষয়ে আমাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

এরপর মূলভাবের উপর বিশপীয় পালকীয় পত্রে প্রদত্ত তিনটি প্রশ্নের আলোকে ফাদার উজ্জ্বল বেনেডিক্ট গ্রেগরী, ফাদার বিশ্বনাথ ফাউস্তিনো মারাণ্ডী শেলী বিশ্বাস আলোচনা করেন।

বিশপ মহোদয়ের পালকীয় পত্রের প্রথম প্রশ্নের আলোকে ফাদার উজ্জ্বল বেনেডিক্ট গ্রেগরী বলেন, “দীক্ষাস্নানের গুণেই আমরা প্রত্যেকে শিষ্য বা শিষ্যা হয়ে উঠেছি। আর দীক্ষাস্নানের গুণের আমরা প্রত্যেকে যাজকীয়, রাজকীয় প্রাবক্তিক দায়িত্ব লাভ করেছি।

পালকীয় সম্মেলনে দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ

বিশপীয় পালকীয় পত্রের দ্বিতীয় প্রশ্নের আলোকে শেলী বিশ্বাস বলেন, “স্বয়ং যিশু নিজেই প্রেরিত, তিনি যেমন বাণীপ্রচার করেছেন তেমনি আমাদেরও খ্রিস্টবাণী প্রচার করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, “প্রথমত: পরিবারে বাইবেল পাঠের মাধ্যমে, পারিবারিক প্রার্থনার মাধ্যমে উপাসনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত: নিজেদের ভাষা সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে- ধর্মীয় নাটক, প্রবন্ধ, ছোট গল্প কবিতা লেখালেখির মাধ্যমে। তৃতীয়ত: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কনটেন্ট রিলস শেয়ার করার মধ্য দিয়ে।

বিশপীয় পালকীয় পত্রের তৃতীয় প্রশ্নের আলোকে ফাদার বিশ্বনাথ ফাউস্তিনো মারাণ্ডী বলেন, “বাণীপ্রচার সরাসরি ঈশ্বর প্রদত্ত। দীক্ষাস্নানের মাধ্যমে স্বয়ং ঈশ্বর আমাদের এই দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমরা বহির্মুখী প্রচার অর্থাৎ খ্রিস্ট মণ্ডলীর বাইরে অন্যদের কাছে বাণীপ্রচার করতে পারি।

এরপর ৮টি দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে ধর্মপল্লীর জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ৫টি আগ্রাধিকার গ্রহণ করা হয়। যেমন: ১। পারিবারিক সচেনতা বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকদের কর্মশালা। ২। ধর্মশিক্ষা জোরদারকরণ ৩। ধর্মপল্লীর জনগণকে ধর্মপল্লীর কাজে আর্থিক অনুদান প্রদানে উৎসাহিত করা। ৪। গ্রামের সামাজিক সমস্যা সমাধানকরণ। ৫। ধর্মপল্লীর বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, যেমন: ওয়াইসিএস, বিসিএসএম, মারীয়া সংঘ, এসভিপি বিভিন্ন পর্ব পালন।

অংশগ্রহণকারী সিলভিয়া টুডু বলেন, “আমি একজন মারীয়া সংঘের সদস্যা। এই পালকীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুব খুশি। আমি আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করছি, আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিয়মিত সন্ধ্যা প্রার্থনা করবো।

তিনি আরো বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে পবিত্র বাইবেল পাঠ সহভাগিতা করবো প্রতি রবিবার নিয়মিত পবিত্র খ্রিস্টযাগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবো। এই পালকীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে শিক্ষা অনুপ্রেরণা লাভ করেছি। - ফাদার অনিল ইগ্নেসিউস মারাণ্ডী

Bengali pop up image