ফাদার তপন ডি’ রোজারিও’র লেখা বই এবং ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন

ফাদার তপন ডি’ রোজারিও’র লেখা বই এবং ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন

গত ৩০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:, (হাউজিং সোসাইটি) এর হল রুমে ফাদার তপন ডি’ রোজারিও’র লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্চবিশপ বিজয় এন’ডি ক্রুশ, তেজগাঁও চার্চের পালপুরোহিত জয়ন্ত এস. গমেজ, হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান আগষ্টিন প্রতাপ গমেজ, নটর ডেম কলেজের শিক্ষক মারলিন ক্লারা পিনেরু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসসহ অন্যান্য লেখক, সিস্টার, এবং নেতৃবৃন্দ।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষক ফাদার তপন ডি’ রোজারিও এর বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ধর্মতত্ত্বের আলোকে বাংলাদেশ ‘ক্রুশের পথ’ তির্থী তপন (Tirthi Tapan) ইউটিউব চ্যানেলের উদ্বোধন এবং মাইমের শিল্প, দর্শন ও উত্তরাধিকার উদযাপন “নৈঃশব্দের প্রতিধ্বনি” নামক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

আর্চবিশপ বিজয় এন’ডি ক্রুশ তার বক্তব্যে বলেন, “এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম নতুনত্বের স্বাদ পাবে এবং নতুন ভাবে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে জানতে পারবে।”

“আমি বিশ্বাস করবো ধীরে ধীরে এই চ্যানেল আরো সুন্দর সুন্দর কনটেন্ট আমাদের উপহার দিবে,” বলেন আর্চবিশপ বিজয়। 

অনুষ্ঠানে ফাদার জয়ন্ত, ফাদার তপন’কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এতো সুন্দর একটা  বই উপহার দেয়ার জন্য এবং এই সময়ের যুগোপযুগী ইউটিউব চ্যানেল উন্মোচন করার জন্য।

“আমি দেখেছি এই চ্যানেলের প্রথম কনটেন্ট বাংলাদেশ ক্রুশের পথ খুবই সুন্দর একটি অনুষ্ঠান। একই সাথে এখানে যে বাদ্যযন্ত্র, গান এবং অন্যান্য বিষয়গুলো ধরা হয়েছে তা সত্যিই দর্শকের মনে স্থান করে নিবে,” বলেন ফাদার গমেজ।

ফাদার তপন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময়ে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন যারা কোনো কথা ছাড়া শারীরিক অঙ্গ-ভঙ্গির মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামুলক বিষয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন এবং তারই বিষয়ে তিনি তার বইয়ে লিখেছেন।

নৈঃশব্দের প্রতিধ্বনি লেখা বইটির মোড়ক উন্মোচন এবং ইউটিউব চ্যানেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগহণকারীগণ

একই সাথে ধর্মীয় দৃষ্টিতে তার চিন্তা, চেতনা, সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন তার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে।

ফাদার তপন বলেন, “আমি আমার প্রথম কনটেন্ট বাংলাদেশ ক্রুশের পথ এর মাধ্যমে নতুন কিছু আনার চেষ্টা করেছি এবং ক্রুশের পথে ১৪ টি স্থান থাকলেও আমার এখানে ১৫টি স্থান দেখিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “শব্দ ছাড়াও যে শারীরিক ভিবিন্ন ভঙ্গিতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো বম্ভব তাই এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানের বক্তাগণ বলেন, “এই ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে নতুন কিছু শিখতে পারবে।”

নীরবতার ভাষা- মাইম একটি প্রাচীন অথচ সর্বদা বিকাশমান প্রকাশভঙ্গি, যা কথার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে। আদিম মানবসমাজের মৌলিক ইশারা-ভঙ্গি থেকে শুরু করে আজকের জটিল পারফরম্যান্সধর্মী শিল্পে মাইম এক অনন্য ভাষায় রূপ নিয়েছে- যা সংস্কৃতি, প্রজন্ম এবং মতাদর্শের সীমা ছাড়িয়ে হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিকে প্রকাশ করতে সক্ষম।”

নৈঃশব্দের প্রতিধ্বনি নামক এ বইটি একটি সুদৃঢ় বিশ্বাস থেকে জন্ম নিয়েছে, মাইম কেবল একধরনের নাট্যশৈলী নয়; বরং এটি মানব-আত্মার এক গভীর ভাষা- যা গল্প বলে, শিক্ষা দেয়, শুশ্রূষা করে, সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে এবং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন।

এরইমধ্যে দেশ-বিদেশে ৮ শতাধিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে মূকনাট্যদলটি। আর্মেনিয়া, মরক্কো, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় ও নাট্যোৎসবে অংশ নিয়েছে। - ডিসিনিউজ

Bengali pop up image