ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রিষ্টান ছাত্র সংগঠনের প্রথম কার্যালয় উদ্বোধন
গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দীর্ঘ প্রতিক্ষা ও নানা দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভট্টাচার্য ভবনের ১০০৩ নম্বর রুমে সংগঠনটির একটি নিজস্ব কার্যালয় উদ্ভোধন করা হয়।
এ উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মডারেটর ও আধ্যাত্মিক পরিচালক ফাদার তপন ডি’ রোজরিও, সাবেক সভাপতি স্বচ্ছ চিসিম। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রিষ্টান ছাত্র সংগঠনের সাবেক সভাপতি সানি স্যামসন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রীষ্টান শিক্ষার্থীদের মাঝে ঐক্য ও সমন্বয় সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮০ খ্রীষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রিষ্টান ছাত্র সংগঠন গঠিত হয়েও ৪৬ বছর পরে প্রথম কার্যালয় পেল সংগঠনটি।
দীর্ঘ পথচলায় উক্ত সংগঠনের হাত ধরেই খ্রীষ্ঠান সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দ শানিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে খ্রীষ্টীয় সমাজে নেতৃত্ব দিয়েছে যা এখনও চলমান।
প্রাক-বড়দিন উদযাপন ও বার্ষিক মুখপত্র ‘সোপান’ প্রকাশ, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপন ও স্মরণ, খ্রীষ্টান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপসহ প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দু’শতাধিক খ্রীষ্টান শিক্ষার্থী সদস্য হিসেবে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানা ছাড়াই জগন্নাথ হলের মাঠ বা গণরুম, টিএসএসি বা বটতলায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও চাহিদার মধ্যে সংগঠনের একটি নিজস্ব কার্যালয়ের দাবি ছিলো অন্যতম।
একইদিনে অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে বার্ষিক সাধারণ সভা, নবীনবরণ ও নতুন নিবার্হী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি পায়েল পৌল ম্রং, সাধারণ সম্পাদক রোনাল্ড অরুণাভ দাস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন ত্রিপুরা।
সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি পায়েল পৌল ম্রং বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রিষ্টান ছাত্র সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রীষ্টান শিক্ষার্থীদের দিকে বিশেষ নজর দেয়া, যীশু খ্রীষ্টের জন্মবার্তা সকলের বিশেষ করে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তুলে ধরা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন, শিক্ষা সফর।”
তিনি আরো বলেন, “আগে যখন নির্দিষ্ট কক্ষ ছিলো না তখন সংগঠনের বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংরক্ষণে রাখা সম্ভব হতো না। এছাড়াও সংগঠনের সাপ্তাহিক বা মাসিক সভার জন্য নির্দিষ্ট স্থানের অভাব ছিলো, এমনকি প্রার্থনা করার জন্যও নির্দিষ্ট স্থান ছিলো না।”
“বর্তমানে সংগঠনটি নির্দিষ্ট কক্ষ পাওয়ার পর নিয়মিত সাপ্তাহিক বা মাসিক সভা, প্রার্থনা পরিচালনা এবং সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ রাখতে পারবেন,” বলেন ম্রং।
তিনি আরও আশা ব্যক্ত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে আসবাবপত্র ও প্রজেক্ট পাওয়ার পর তারা কক্ষটিতে ছোট পরিসরে ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের আয়োজন করবেন।”
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজস্ব কক্ষ প্রাপ্তিতে সংগঠনের নিয়মিত সভা, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন গঠনমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের একটি স্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। নিজস্ব কক্ষ পাওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্ষিক সাধারণ সভা, নবীনবরণ ও নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা এবং নিজস্ব কক্ষ উদ্ভোধনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খ্রীষ্টান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংগঠিক চেতনা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নবগঠিত নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে সংগঠনটি যুবক-যুবতীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংগঠনের সদস্যরা। - শান্তা লুসী রোজারিও, ডিসিনিউজ
