সাধু ঘোষণার পথে সিবিল কাথিগাসু : শ্রদ্ধা ও প্রার্থনায় সমবেত হয়েছেন মালয়েশিয়ার খ্রিস্টভক্তগণ

গত জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মালয়েশিয়ার খ্রিস্টভক্তগণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাহসী নারী যোদ্ধা,  প্রয়াত সিবিল কাথিগাসুকে ধন্যশ্রেণী এবং পরে সাধু শ্রেণিভুক্ত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।  

উপলক্ষ্যে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা পেনাং ধর্মপ্রদেশের সাধু মাইকেল গির্জায় সমবেত হয়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে  তার উৎসর্গীকৃত  র্জীবন , ত্যাগ বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া সিবিলের অসাধারণ সাহসিকতা, মানবসেবা এবং খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন যেন সাধু ঘোষনার জন্য যে প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে তা যেন সফলভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়  

সিবিল কাথিগাসু যিনি একজন সাহসী নারী তিনি পেরাক পাপনে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি নিজ বাড়ি থেকে গোপনে জাপানি শাসনের বিরোধীদের ঔষধ, চিকিৎসাসেবা এবং নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করতেন। তবে তার এই সাহায্য প্রদানের জন্য তিনি জাপানি সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন।

সৈন্যগণ সিবিলকে কঠিন নির্যাতন করেন এবং যাদের  তিনি সাহায্য করেছেন, তাদের নাম জানতে চেয়েছেন। কিন্তু সিবিল কখনোই তাদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেন নি। তাই জাপানি সৈন্যদের  কাছে তিনি নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। তার এই যুদ্ধকাহিনী এবং নির্মম নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা “No Dram of Mercy” নামক একটি বই লেখা হয়।

আরো উল্লেখ্য যে, যখন তিনি কারাবন্দি ছিলেন তখন র্নিমমভাবে শিকার হওয়ার পরে তার শরীরে অনেক ক্ষত চিন্হের সৃষ্টি হয়। নির্যাতনের ফলে তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায়। এই ভাঙ্গা মেরুদন্ড নিয়ে তিনি তাকে পেরাকের সাধু যোসেফ র্গিজায় নিয়ে যাওযার জন্য অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে তাকে গির্জার প্রবেশদ্বারে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি অতিকষ্টে হামাগুড়ি দিয়ে আরাধ্য সাক্রামেন্তের কাছে গিয়ে প্রার্থনা করেন। তার এই ভক্তি গভীর বিশ্বাস আজও অনেক মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

উক্ত এই দিনে সিবিল কাথিগাসুর সমাধিস্থল পরিদর্শন করার পরে পবিত্র খিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন কার্ডিনাল সেবাষ্টিয়ান ফ্রান্সিস। তিনি তার উপদেশবাণীতে বলেনসিবিল এমন একজন ব্যক্তি  ছিলেন যিনি তার জীবন আদর্শ ধর্ম , জাতিগত পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক সীমারেখা অতিক্রম করে সকল মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।

 

গত জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ মালয়েশিয়ার কাথলিক মণ্ডলী  কর্তৃক তাকে ধন্য এবং সাধু শ্রেনীভুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এই পদক্ষেপে  কার্ডিনাল সেবাস্তিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে সিবিল ক্যাথিগাসুর ধন্য (Beatification) সাধু  (Canonisation) ঘোষণার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

বরেণ্য এই সিবিল যুদ্ধ থেকে  জীবিত ফিরে এলেও বন্দিদশায় সহ্য করা নির্যাতনের ক্ষত থেকে আর কখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। উন্নত চিকিৎসার আশায় তিনি ব্রিটেনে যান। সেখানে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ১২ জুন স্কটল্যান্ডের ল্যানার্কশায়ারে ৪৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ মালয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং ইপোহের সাধু মাইকেল গির্জায় সমাহিত করা হয়। আজও তাঁর সমাধি ক্যাথলিক বিশ্বাসীসহ অসংখ্য মানুষের জন্য এক তীর্থস্থান, যেখানে তাঁরা তাঁর জীবনসাক্ষ্য থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

কার্ডিনাল সেবাস্তিয়ানের ব্যক্তিগত সহকারী Christopher Kushy রেডিও ভেরিতাস এশিয়াকে বলেন, “সিবিলের জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সাহস ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়কেও অতিক্রম করতে পারে।

তাঁর মৃত্যুর প্রায় আট দশক পরও সিবিল ক্যাথিগাসুর জীবনকাহিনি মালয়েশিয়ার ক্যাথলিক ইতিহাসের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক হৃদয়স্পর্শী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। আরভিএসংবাদ