জেসুইট সুপিরিয়র জেনারেলের হাতে ঈশ্বরের সেবক ফাদার আন্তে গাব্রিচের যাজকীয় জীবন ও সমাজ সংস্কারের উপর বই প্রকাশ

বিগত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -  এই দিনে রোম থেকে আগত জেসুইট সঙ্ঘের সুপিরিয়র জেনারেল ফাদার আর্তুরো সোসা, গুরাপের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে "দেবতা আমাদের মধ্যেই ছিলেন - ফাদার আন্তে গ্যাব্রিচ এস জে-এর জীবনগাথা"  বই প্রকাশ করেন।

বইটি হলো ক্রোয়েশিয়ান ধর্মপ্রচারক এবং 'ঈশ্বরের সেবক' জেসুইট ফাদার আন্তে গ্যাব্রিচের সুন্দরবন অঞ্চলে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের যাজকীয় জীবন এবং আর্ত মানুষদের সেবার কাহিনী, যা সহজবোধ্য ভাষায় বাঙালি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

ফাদার আন্তে গ্যাব্রিচ মাত্র ২৩ বছর বয়সে তাঁর জন্মভূমি ক্রোয়েশিয়ার মেটকোভিচ ছেড়ে ভারতে আসেন এবং তাঁর পুরোহিত জীবনের ৫০ বছর সুন্দরবন মিশনে (প্রধানত মোড়াপাই, বাসন্তী, মারীয়া পল্লী এবং দূরদূরান্তরের অসংখ্য উপ-প্যারিশের প্রান্তিক মানুষদের নিঃস্বার্থ সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।

গুরাপের স্থানীয় আদিবাসী মহিলা ও শিশুদের অনুষ্ঠিত স্বাগত গান, নাচ এবং বিশিষ্ট অতিথিদের পা ধোয়ার পর, সকাল ১১টায় সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল-গুরাপের মাঠে, স্থানীয় জেসুইট যাজকগণ ও বিভিন্ন সহযোগীদের উপস্থিতিতে ফাদার সোসা বইটি প্রকাশ করেন। 

ফাদার সোসা বর্তমানে কলকাতায় জেসুইট কনফারেন্স অফ সাউথ এশিয়াতে (JCSA) অংশ নিতে ভারতে এসেছেন যেখানে তিনি এই উপমহাদেশের সমস্ত জেসুইট প্রদেশের প্রধানদের সাথে দেখা করবেন।

এই বইটি হলো ফাদার ইরুদয়া জ্যোতির লেখা The Apostle of the Sundarbans - The Life and the Mission of the Servant of God Fr Ante Gabrić মূল বইয়ের বাংলা অনুবাদ। কলকাতার শ্রী আইজাক হ্যারল্ড গোমস্ এই অনুবাদটি করেছেন। তিনি একজন স্বাধীনভাবে-কাজ-করা অনুবাদক এবং হেরাল্ড-কলকাতা, ইন্ডিয়ান কারেন্টস এবং অন্যান্য ক্যাথলিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত লেখেন।

ফাদার আন্তে বারুইপুর  ধর্মপ্রদেশের মারীয়া পল্লী  ধর্মপল্লীতে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং এখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। এখন এটি একটি পবিত্র স্মৃতিসৌধ যেখানে ক্রোয়েশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ দর্শনার্থীরা কঠিন অসুখ থেকে সেরে ওঠা, ইত্যাদি মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ফাদার আন্তের মধ্যস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন।

দেবতা আমাদের মধ্যেই ছিলেন বইটির শিরোনাম রায়গঞ্জ  ধর্মপ্রদেশের বিশপ আলফোনস্ ডি’সুজা এবং খ্রীষ্টধর্ম শিক্ষক শ্রী নিকোলাস নস্করের সাক্ষ্যের সাথে খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ। এঁরা দু’জনেই ফাদার আন্তে গ্যাব্রিচকে খুব কাছে থেকে দেখেছিলেন। যখন ফাদার আন্তের নশ্বর দেহ কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ প্রাঙ্গনে আনা হয়েছিল, তখন বিশপ আলফোনস্ ডি’সুজা তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে নতজানু হয়ে বলেছিলেন, "আমাদের সময়ের একজন সাধুপুরুষ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন!" শ্রী নিকোলাস নস্কর বলেছিলেন, "সত্যিই ফাদার আন্তে একজন সাধু ছিলেন যিনি আমাদের মধ্যে বাস করতেন, কিন্তু আমরা তাঁকে চিনতে পারি নি!" নিকোলাস মহাশয় বাসন্তীতে ফাদার আন্তের মিশনের শুরু থেকে মারীয়া পল্লীতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাথে কাজ করেছিলেন।

আইজাক গোমস্ এবং এই প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনের সময় ক্রোয়েশিয়ান স্বেচ্ছাসেবী শ্রীমতি কাতা জোসিপোভিচ ফাদার আন্তেকে ‘স্বর্গধন্য’ ঘোষণা করার প্রক্রিয়াটি (যা ভারতের হয়ে ভাইস-পোস্টুলেটর ফাদার ইরুদয়া জ্যোতি তদারকি করছেন) খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে ফাদার আন্তের উপর লেখা দুইটি বইই হলো ক্রোয়েশিয়া এবং কলকাতার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি মহান নিদর্শন। আসুন আমরা সবাই প্রার্থনা করি যেন ফাদার আন্তে গ্যাব্রিচকে শীঘ্রই ধন্য ঘোষণা করা হয়।

এই বইটির সম্পাদনা করেছেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের বিশিষ্ট ভাষাবিদ ফাদার তিমির সিংহ এস জে।

ভানু প্রকাশ মুর্মু