এফএবিসির অধিবেশনে প্রার্থনাপূর্ণ বিরতিতে বিশপ তাগলে : “খ্রিস্টই প্রকৃত সেতুবন্ধনকারী”

“খ্রিস্টই সেই প্রকৃত সেতুবন্ধনকারী, যিনি ঈশ্বর, মানবজাতি এবং সমগ্র সৃষ্টিকে একত্রে যুক্ত করেন।”

জাকার্তা, ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, এশিয়ার বিশপদের সম্মেলন (এফএবিসি)-এর ১২তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের তৃতীয় দিনটি প্রার্থনা, নীরব ধ্যান ও আত্মিক ভাবে মূল্যায়ন করার জন্য উৎসর্গ করা হয়। এদিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশপ ও প্রতিনিধিরা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আলোচনা থেকে বিরতি নিয়ে প্রার্থনা ও আত্নমূল্যায়নে অংশ নেন।

জাকার্তার হোটেল মুলিয়ার জারবেরা হলে অনুষ্ঠিত এই প্রার্থনামূলক অধিবেশনে ধ্যান পরিচালনা করেন সুসমাচার প্রচার বিষয়ক ডিকাস্টারির প্রো-প্রিফেক্ট কার্ডিনাল লুইস আন্তোনিও তাগলে। যোহন রচিত সুসমাচার (১:৪৩–৫১)-এর আলোকে তিনি বলেন, সিনোডাল রূপান্তর এবং এশিয়ায় সেতুবন্ধন গড়ে তোলার আহ্বান তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা যিশু খ্রিস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।

কার্ডিনাল তাগলে বলেন, “খ্রিস্টই সেই প্রকৃত সেতুবন্ধনকারী, যিনি ঈশ্বর, মানবজাতি এবং সমগ্র সৃষ্টিকে একত্রে যুক্ত করেন।” যাকোবের সিঁড়ির প্রতীক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যিশু স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে জীবন্ত সেতু। তাই প্রকৃত অর্থে সেতুবন্ধনকারী হতে হলে প্রত্যেক খ্রিস্টভক্তকে প্রথমে খ্রিস্টের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র আত্নাকে গ্রহণের মাধ্যমে ঈশ্বর মানবীয় হয়েছেন। যিশু কেবল ঈশ্বরকে প্রকাশ করেননি, বরং মানুষকে প্রকৃত মানবিকতার পথও দেখিয়েছেন। তাই ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওয়া মানে মানুষের ও সমগ্র সৃষ্টির কাছ থেকেও দূরে সরে যাওয়া নয়।

কার্ডিনাল তাগলে পালকীয় সেবায় বিনয় ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরে সতর্ক করেন, মণ্ডলীর নেতৃত্ব যেন কখনো মানুষের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার মানসিকতা গ্রহণ না করে। খ্রিস্টের আত্ম উৎর্স্গের  (Kenosis) আদর্শ অনুসরণ করে ভালোবাসা ও সেবার মনোভাবেই মণ্ডলী পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে নীরব প্রার্থনা, ধ্যান এবং পবিত্র আত্নার প্রেরণার মাধ্যমে ধর্মগুরুগণ  পবিত্র আত্মার নির্দেশনা অনুসন্ধান করেন। অধিবেশনে ব্যক্ত  করা হয় যে, প্রকৃত সিনোডাল রূপান্তর কোনো পরিকল্পনা বা কাঠামো দিয়ে নয়, বরং খ্রিস্টের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং পবিত্র আত্মার কণ্ঠ শোনার মধ্য দিয়েই শুরু হয়। - আরভিএ সংবাদ।

Bengali pop up image