ভারতে তুরার  অবসর প্রাপ্ত বিশপ জর্জ মামালাসেরি ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন

তুরার অবসর প্রাপ্ত বিশপ জর্জ মামালাসেরি

তুরার  অবসর প্রাপ্ত বিশপ  জর্জ মামালাসেরি 5 জুলাই, 2024 তারিখে :২০ টায়  তুরার হলি ক্রস হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের, মেঘালয়ের তুরার হাসপাতালে তিনি গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মারা যান।

তিনি গত কয়েক মাস ধরে ফুসফুসে জল জমার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ২৮ বছর (1979-2007) মেঘালয়ের তুরার ধর্মপ্রদেশে প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২৩শে এপ্রিল, ১৯৩২ সালে দক্ষিণ ভারতের কেরালার কালাথুরে জন্মগ্রহণ করেন। মামালাসেরি ছিলেন  পিতা কুরিয়ান এবং মাতা এলিজাবেথ মামালাসেরির তিন সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ।

মাত্র ১২ বছর বয়সে  তিনি পিতা-মাতাকে হারান। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে মাদ্রাজ-মাইলাপুর ধর্মপ্রদেশের  পুনামল্লির সেক্রেড হার্ট সেমিনারিতে যোগ দেন।

মিশনারি উদ্যোগের দ্বারা পরিচালিত হয়ে , তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে সেবা করার জন্য স্ব ইচ্ছায় কাজ নিয়ে ছিলেন। বিশপ লুই ম্যাথিয়াস তাকে ২৪ এপ্রিল ১৯৬০ সাল কাজে নিযুক্ত করেছিলেন।

শিলং-গুয়াহাটির আর্চডায়োসিস ম্যালেরিয়া এবং বন্যপ্রাণী দ্বারা জর্জরিত উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি দুর্গম, বিপজ্জনক এলাকা গারো পাহাড়ে মামালাসেরিকে পাঠিয়েছিল।

এক দশক ধরে তুরা বাগমারায় সহকারী পাল পুরোহিত হিসেবে কাজ করার পর, তিনি 1970 সালে ডালুর পাল পুরোহিত হন। 1971 সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, তিনি তার ধর্মপল্লীর বাস্তুচ্যুত লোকদের আশ্রয়, খাবার  অন্যান্য সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।

  ফেব্রুয়ারী ১৯৭৯, ৪৬ বছর বয়সে, হোলি সি ,তুরার প্রথম বিশপ হিসাবে মামালাসেরিকে মনোনীত করেণ। 18 মার্চ, 1979- তিনি বিশপ পদে অভিষিক্ত হন।

বিশপ হিসেবে, তিনি ১৪টি বিদ্যমান কেন্দ্র আরও প্রসারিত করেন এবং ২৩টি নতুন ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠা করেন, যার মধ্যে গীর্জা, প্রেসবিটারি, কনভেন্ট, ডিসপেনসারি, হোস্টেল এবং স্কুল রয়েছে।

এই অঞ্চলের দুর্বল অর্থনৈতিক শিক্ষাগত মানকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একাডেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ চক্র গড়ে তোলেন।

বিশপ মামালাসেরি স্যালেসিয়ান এবং জেসুইটদের যথাক্রমে তুরা এবং উইলিয়ামনগরে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

তিনি গারো পাহাড়ের পাঁচটি জেলা জুড়ে ৩৪টি ডিসপেনসারি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেন এবং ১৯৯৩ সালে তুরাতে ১৫০ শয্যার হলি ক্রস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর  এই নির্মাণ প্রকল্প তথা উদ্যোগের  জন্য তিনি "ইঞ্জিনিয়ার বিশপ" ডাকনাম অর্জন করেন।

তিনি  জনকল্যানকর স্বাস্থ্যসেবা  শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তুরাতে রিনো সিমোনেটি স্কুল অফ নার্সিং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভিন্নভাবে-অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য, তিনি মন্টফোর্ট ব্রাদার্সকে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য মন্টফোর্ট সেন্টার তৈরি করার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বিশপ জর্জ 'বকদিল' প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন যা ডায়োসেসান সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টার নামে পরিচিত; এখন উত্তর-পূর্ব ভারতের শীর্ষ-কার্যকারি এনজিওগুলির মধ্যে অন্যতম।

২০০৭ সালে অবসর নেওয়ার পর, বিশপ জর্জ পুরোহিতের বাড়িতে থেকে ধর্মপ্রদেশ তথা ডায়োসিসের সেবা কর্ম চালিয়ে যান। মেঘালয় সরকার তাঁকে পা তোগান সাংমা পুরস্কারে সম্মানিত করেছে, এবং মেঘালয়ের বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য ২০১৯ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করেন।

গারো পাহাড়ে তাঁর ধর্মপ্রচারক কাজ এবং তুরার ডায়োসিসে তাঁর মৌলিক ভূমিকার জন্য ভারতের খ্রীষ্টমণ্ডলী তাঁর কাছে চিরকাল গভীরভাবে ঋণী থাকবে।- স্টিফেন আলথারার ইনপুট। অনুলিখন – চন্দনা রোজারিও।

Tags