মালয়েশিয়া পেনাং-এ সাধ্বী অ্যানের পর্বকে রাষ্ট্রের আধ্যাত্নিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দান

গত মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, কাম্পুং মেংকুয়াং টিটি - পেনাং স্টেট হেরিটেজ কমিশনারের কার্যালয়ের আয়োজিত এক ঘোষণাপর্বে সাধ্বী অ্যানের পর্বকে তাদের রাষ্ট্রের আধ্যাত্নিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।  উক্ত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পেনাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী চাও কন ইয়াও।

এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সাধ্বী অ্যানের তীর্থকে পেনাংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রাষ্ট্রের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক জীবনে এই উৎসবের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্নিক অবদানের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে।

 উল্লেখ্য প্রতি বছর জুলাই মাসে Minor Basilica of St Anne- এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটি মালয়েশিয়ার ক্যাথলিকদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনার স্থান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ খ্রিস্টীয় তীর্থযাত্রা হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী দর্শনার্থী নভেনা প্রার্থনা মহোৎসবে অংশ নিতে বুকিত মার্তাজাম একত্রিত হন। পুণ্যতীর্থে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও সিঙ্গাপুর,থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস সহ বিভিন্ন দেশ থেকে তীর্থযাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভাবগাম্ভীর্য এই র্তীথযাত্রায় বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র খ্রিস্টযাগ, মোমবাতি শোভাযাত্রা, জপমালা প্রার্থনা এবং পবিত্র কুমারী মারীয়ার জননী সাধ্বী  অ্যানকে কেন্দ্র করে নানা ধর্মীয় ভক্তিমূলক  প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।বলা হয় যে পেনাং রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধুমাত্র একটি ভবন বা স্থাপনাই নয় বরং নিজেদের রাষ্ট্রের পরিচয় ইতিহাসের গুরুত্বর্পর্ণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত সাংস্কৃতিক প্রকাশ,ঐতিহ্য এবং এর চর্চাকে স্বীকৃতি দেয়।

রেডিও ভেরিতাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিকন লাজারুস আ্যান্থনী বলেন,“এই তীর্থযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পেনাং রাজ্য  সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি  আরো বলেন, “এই পুণ্যতীর্থ কেবল একটি বাৎসরিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি এমন এক বাস্তব জীবন্ত ঐতিহ্য, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচলিত হয়ে আসছে এবং যা মানুষের  আধ্যাত্নিক জীবন , ভক্তি, ঐক্য পেনাংয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

উল্লেখ্য সেন্ট অ্যান গির্জার ইতিহাস উনবিংশ শতাব্দীতে শুরু হয়। ধারণা করা হয়, বাতু কাওয়ান এলাকায় মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় চীনা ভারতীয় ক্যাথলিকগণ বুকিত মেরতাজাম  এসে বসতি স্থাপন করেন। পরে তারা সাধ্বী অ্যান পাহাড়ের পাদদেশে প্রার্থনার জন্য সমবেত হতে শুরু করেন।

প্রথমে পাহাড়ের চূড়ায় একটি ছোট চ্যাপেল নির্মিত হয়। পরে ১৮৬৫ সালে আরও বড় একটি দ্বিতীয় চ্যাপেল গড়ে তোলা হয়। ১৮৮৮ সালে ফাদার F. P. Sorin একটি বড় গির্জা নির্মাণ করেন, যা বর্তমানেওল্ড চার্চবাশ্রাইন অব হারমনিনামে পরিচিত। ২০০২ সালে বর্তমান উপাসনালয়টি উদ্বোধন করা হয়, যাতে বার্ষিক তীর্থে আগত বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রী একত্রিত হতে পারেন। ২০১৯ সালে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস , এই গির্জাটিকেমাইনর ব্যাসিলিকাহিসেবে নামকরণ করেন। এর মাধ্যমে এটি মালয়েশিয়ার প্রথম গির্জা হিসেবে এই বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। - আরভিএ সংবাদ