প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং চালু করে এফএবিসি অ্যাসেম্বলি, গুরুত্বপূর্ণ কমিটি নির্বাচনের জন্য
ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস' কনফারেন্সেস (এফএবিসি)-এর দ্বাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের প্রথম দিনটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলো, যেখানে প্রতিনিধিরা অধিবেশনের কার্যপ্রণালী পরিচালনা এবং এর দুটি প্রধান পত্র প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা ও কমিটিসমূহকে নির্বাচিত করার জন্য একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা ব্যবহার করেন।
২১শে জুলাই জাকার্তার হোটেল মুলিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যরা একটি অনলাইন ভোটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চূড়ান্ত পত্রের জন্য কমিটি, চূড়ান্ত বার্তার জন্য কমিটি এবং সভাপতিদের নির্বাচিত করেন—যা এফএবিসি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ইতিহাসে প্রথম।
ইন্দোনেশিয়ান বিশপস কনফারেন্সের যোগাযোগ কার্যালয় এবং রেডিও ভেরিটাস এশিয়া (আরভিএ) মিডিয়ার সহায়তায় অ্যাসেম্বলির মিডিয়া টিম ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমটি তৈরি ও পরিচালনা করেছে।
গুগল ফর্মের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পরিচালিত হয় এবং বিশপরা তাঁদের মোবাইল ফোনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে, প্রতিনিধিরা মূল পর্দায় প্রদর্শিত একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে ইলেকট্রনিকভাবে নিবন্ধন করেন। যেসব বিশপ সিস্টেমে প্রবেশ করতে বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অসুবিধা বোধ করছিলেন, যোগাযোগ দলের স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁদের সহায়তা করেন।
এফএবিসি-র সহ-সভাপতি কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও এস. ডেভিড নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি দফার ভোটগ্রহণের আগে তিনি নির্বাচিতব্য কমিটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর যোগ্য ও ভোটদানের অধিকারীদের চিহ্নিত করেন এবং প্রতিটি ইলেকট্রনিক ব্যালট বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই ফলাফল ঘোষণা হয়।
সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াটি প্রায় ৩০ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছিল, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে। আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রচলিত কাগজের ব্যালট বা হাত তুলে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতে সম্ভবত আরও অনেক বেশি সময় লাগত।
তবে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগে অধিবেশনে একটি পদ্ধতিগত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
ফিলিপাইনের কাসেরেসের আর্চবিশপ রেক্স অ্যান্ড্রু ক্লেমেন্ট আলারকন উল্লেখ করেন যে, এফএবিসি-র সংবিধানে কাগজের ব্যালটে অথবা হাত তুলে ভোট দেওয়ার বিধান রয়েছে এবং এতে ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে অ্যাসেম্বলিকে অনলাইন সিস্টেম ব্যবহারের অনুমোদন দিতে হবে।
কার্ডিনাল ডেভিড এই হস্তক্ষেপটিকে সবার সামনে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে গণ্য করেন। প্রস্তাবটি একজন সমর্থনকারী পাওয়ায় এবং কোনো আপত্তি না ওঠায়, সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবহারের অনুমোদন দেন, যার ফলে নির্বাচনটি এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এর আগে, এফএবিসি-র সহযোগী মহাসচিব ফাদার ক্ল্যারেন্স দেবদাস তিনটি নির্বাচিত সংস্থার দায়িত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই অ্যাসেম্বলি থেকে দুটি প্রধান ফলাফল প্রত্যাশিত: এশিয়ায় সিনোডালিটির উপর একটি ভ্যাডেমিকাম এবং দ্বাদশ এফএবিসি পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেম্বলির চূড়ান্ত বার্তা।
চূড়ান্ত পত্রের কমিটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিবেদন এবং অংশগ্রহণকারীদের অবদানের উপর ভিত্তি করে ভ্যাডেমিকামের রূপরেখা প্রস্তুত করবে। আশা করা যায়, সিনোডালিটি বিষয়ক সিনোডের চূড়ান্ত দলিল এবং এফএবিসি ব্যাংকক পত্রের আলোকে এই পত্রটি এশিয়া জুড়ে বিশপদের জন্য সিনোডালিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা হয়ে উঠবে।
কমিটিতে নির্বাচিতরা হলেন কার্ডিনাল টারসিসিও ইসাও কিকুচি, এসভিডি, টোকিওর আর্চবিশপ এবং এফএবিসি-র মহাসচিব; কার্ডিনাল ফিলিপে নেরি ফেরো, গোয়া ও দমনের আর্চবিশপ এবং এফএবিসি প্রেসিডেন্ট; এবং কার্ডিনাল পাবলো ভার্জিলিও এস. ডেভিড, কালুকানের বিশপ এবং এফ এ বি সি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিশপ অ্যান্থনি জেমস করকোরান, এসজে, কিরগিজস্তানের অ্যাপোস্টলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর।
এশিয়ার মণ্ডলীর প্রতি অ্যাসেম্বলির সমাপনী বার্তার খসড়া তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘চূড়ান্ত বার্তা কমিটি’-তে রয়েছেন হংকং-এর বিশপ কার্ডিনাল স্টিফেন চাও সাউ-ইয়ান, এসজে; ভারতের হায়দ্রাবাদের আর্চবিশপ কার্ডিনাল অ্যান্টনি পুলা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের আর্চবিশপ জুলিয়ান লিও বেং কিম; এবং ফিলিপাইনের লিপার আর্চবিশপ গিলবার্ট এ. গারসেরা।
প্রতিনিধিরা ফিলিপাইনের লিঙ্গায়েন-দাগুপানের আর্চবিশপ সক্রেটিস বি. ভিল্লেগাস, বাংলাদেশের ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি'ক্রুজ, ওএমআই, এবং ইন্দোনেশিয়ার বান্দুংয়ের বিশপ আন্তোনিয়াস সুবিয়ান্তো বুঞ্জামিন, ওএসসি-কে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তাঁরা এফএবিসি-র সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং মহাসচিবের সাথে মিলে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করবেন, যা অ্যাসেম্বলির দৈনন্দিন অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
এই নির্বাচনগুলো ‘এশিয়ায় সিনোডাল রূপান্তর ও সেতুবন্ধন মিশন’ শীর্ষক মূলভাবের ওপর অ্যাসেম্বলির বাস্তবধর্মী কাজের সূচনা চিহ্নিত করেছে। একই সাথে, ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার প্রবর্তন অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত বিচার-বিবেচনার প্রতি তার সিনোডাল অঙ্গীকার বজায় রেখে নতুন পদ্ধতি গ্রহণে অ্যাসেম্বলির সদিচ্ছাকেই প্রতিফলিত করেছে। প্রতিবেদন - আমাদিয়া প্রাণাস্তিতি। অনুবাদ – অতনু দাস।
