বলীপাড়া নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক

নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক

গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,  চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত বলীপাড়া নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান।

এই যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ সুব্রত হাওলাদার সিএসসি সহ বিভিন্ন ধর্মপল্লী এবং বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত ফাদার, সিস্টার, ব্রাদার ও খ্রিস্টভক্তগণ অংশগ্রহণ করেন।

অভিষেক লাভের পূর্বে ঈশ্বরের কাজে নিজেকে নিবেদনের প্রস্তুতি সরুপ ৫ নভেম্বর ধর্মপল্লীতে ডিকনের বরণ ও মঙ্গলকামনায় পবিত্র আরাধনা ও মঙ্গলানুষ্ঠান করা হয়।

পবিত্র খ্রিস্টযাগে প্রধান পৌরোহিত্য করেন চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি। তিনি তাঁর উপদেশ বাণীতে বলেন, “ঈশ্বর যুগ যুগ ধরে বিশেষ ব্যক্তিকে তার মিশন কাজের জন্য আহ্বান জানান। ব্যক্তির কোন বিশেষ যোগ্যতা বা দক্ষতা অথবা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং ঈশ্বর তাকে ভালবেসে আহ্বান জানান।”

“আজ যিনি যাজকীয় অভিষেক লাভ করবেন তিনি এই জগতে খ্রীষ্টের বাণী প্রচার করবেন এবং একই সাথে তিনি খ্রীষ্টের রাজ্য বিস্তার করবেন,” বলেন আর্চবিশপ সুব্রত।

স্থানীয় খ্রিস্টভক্তরা বলছেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান বলীপাড়া ধর্মপল্লীসহ স্থানীয় মন্ডলীর জন্য ঈশ্বরের এক বিশেষ আশির্বাদ ও অনুগ্রহ।

যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী মারীয়া ত্রিপুরা বলেন, “এই যাজকীয় অভিষেক শুধু একজন ব্যক্তির ধর্মীয় জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নয়; বরং বান্দরবান পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

নবঅভিষিক্ত ফাদার বলীপাড়া নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীর ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রথম ফাদার। তিনি ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। আর যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন ৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।

বলীপাড়া নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক

একজন ফাদারের জীবন হলো সেবা, ত্যাগ, মানবিকতা, ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিক পথনির্দেশনার জীবন। তাঁর মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা আরও ছড়িয়ে পড়বে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নবঅভিষিক্ত যাজক ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা তাঁর অনুভুতি ব্যক্ত করে বলেন, “এই যাজকীয় জীবনে যারা আমাকে এই পযর্ন্ত আসতে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ। ঈশ্বরের পথে চলার জন্য যে শক্তি এবং সৎ সাহস প্রয়োজন ঈশ্বর যেন  সেই আর্শীবাদ দান করেন।” 

বলীপাড়া নিবেদিতা কু্মাারী মারিয়া ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার শীতল হিউবার্ড সিএসি, বলেন, “এই যাজকীয় অভিষেক ধর্মপল্লীর জন্য সত্যিই ঈশ্বরের বিশেষ আশির্বাদ। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ধর্মপল্লীর যুবক-যুবতী, শিশুরা এবং খ্রিস্টভক্তরা অনেক কাজ করেছেন তাদের প্রত্যেকে ধন্যবাদ জানাই।”

ফাদার আরও বলেন, “ধর্মীয় বিশ্বাস, মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে তাঁর আগামী দিনের যাজকীয় জীবন হয়ে উঠুক আশীর্বাদপূর্ণ এই প্রার্থনা করি।”

ধর্মপল্লীর একজন খ্রিস্টভক্ত বলেন, “একজন অভিষিক্ত যাজক মানুষকে আধ্যাত্মিক পথ দেখানোর মাধ্যমে স্বর্গের পথ দেখান। তিনি নিজে পবিত্র থেকে মানুষকে পবিত্রতার পথে চালিত করেন। তাই মণ্ডলীতে যাজকদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।”

বান্দরবান পার্বত্য জেলার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ইতিহাসে মাচাং সাধুমনি ত্রিপুরা (ফ্রান্সিস)-এর যাজকীয় অভিষেক নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এমন প্রত্যাশা সবার। - আরভিএ সংবাদ

Bengali pop up image