বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

আজ ৩১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিশ্বজুরে পালিত হচ্ছে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস একটি সুস্থ, সুন্দর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিকল্প নেই।

বছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের মূলসুর হলোআকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন - তামাক নিকোটিন আসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং ধূমপান তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে সবাইকে উৎসাহিত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, ক্রনিক শ্বাসকষ্টজনিত রোগসহ নানা মারাত্মক অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ। তাই তামাকমুক্ত জীবন শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, পরিবার সমাজের সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তামাক সেবনের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, এরমধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রতি বছরে প্রায় লাখ ৬০ হাজার মানুষ মারা যায় তামাক ব্যবহারজনিত রোগে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, যারা কিশোর বয়সে ধূমপানে আসক্ত হয়, তাদের অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকের তুলনায় তিনগুণ বেশি, গাঁজায় আট গুণ এবং কোকেইনের ক্ষেত্রে ২২ গুণ বেশি।  অর্থাৎ তামাক নিকোটিন কেবল একটি আসক্তিই নয়এটি তরুণদের আরো অনেক বিধ্বংসী আসক্তির পথে পরিচালিত করে।

তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ধূমপান, তামাক ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহারে ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে তামাক আজ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধূমপান তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার শুধু মানুষের স্বাস্থ্যই ধ্বংস করছে না, বরং অর্থনীতি, পরিবার পরিবেশের উপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, যক্ষ্মা, শ্বাসকষ্ট এবং মুখগহ্বরের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তামাক। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে ধূমপান, -সিগারেট অন্যান্য নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশে শুধু ধূমপানই নয়, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারও ব্যাপক। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর সবখানেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক নারীও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন, ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তামাকের কারণে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং অকালমৃত্যুর কারণে প্রতিবছর বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে তামাক চাষ পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর বিশেষ করে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। - আরভিএ