ডিজিটাল যোগাযোগকর্মীদের খ্রিস্টের দিকে মানুষকে পরিচালিত করার আহ্বান
গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ফিলিপাইনের কেজন সিটির রেডিও ভেরিতাস এশিয়া (RVA) প্রাঙ্গণের “থ্রি সেইন্টস চ্যাপেলে” প্রথমবারের মতো এশিয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী খ্রিস্টযাগে উৎস্বর্গ করেন রেডিও ভেরিতাসের জেনারেল ম্যানেজার ফাদার ফেলমার ফিয়েল এসভিডি।
তাঁর সঙ্গে সহ-উদযাপন করেন RVA-এর প্রোগ্রাম পরিচালক এবং এশিয় বিশপ সম্মেলন ফেডারেশন (FABC)-এর সামাজিক যোগাযোগ কার্যালয়ের নির্বাহী সচিব ফাদার জন মি শেন এবং ভারতের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলনের সামাজিক যোগাযোগ কার্যালয়ের নির্বাহী সচিব ফাদার সিরিল ভিক্টর জোসেফ।
ফাদার ফেলমার তার উপদেশবাণীতে বলেন “ডিজিটাল মিশনারিদের কাজ শুধু অনলাইনে মানুষকে প্রভাবিত করা নয়; বরং তাদের খ্রিস্টের দিকে পরিচালিত করা ও প্রধান দায়িত্ব।
এছাড়া তিনি সদ্য সমাপ্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত FABC-এর দ্বাদশ প্লেনারি অ্যাসেম্বলির কথা উল্লেখ করেন যে সেখানে এশিয়ায় মণ্ডলীর মিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে “সেতু” ও “সেতু নির্মাতা”-র বিষয়টি উঠে এসেছিল।
তিনি বলেন, এশিয়া ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনৈতিক বাস্তবতা, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মণ্ডলীর অভিজ্ঞতার দিক থেকে বৈচিত্র্যময়। তবে এসব পার্থক্য মানুষকে খ্রিস্টে এক সম্প্রদায় হিসেবে একত্রিত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। “আমরা খ্রিস্টের। আমরা একে অন্যের। আমরা একই মানবতার অংশ,” বলেন তিনি।
ফাদার ফিয়েলের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এমন সব মানুষের কাছে পৌঁছানোর সেতু হয়ে উঠতে পারে, যেখানে মণ্ডলী শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে পারে না। কিন্তু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, সরাসরি সম্প্রচার বা ডিজিটাল গল্পও মানুষের সঙ্গে সুসমাচারের প্রচারের মাধ্যম হতে পারে।
তিনি বলেন, “হয়তো আপনাদের কোনো একটি পোস্টই কারও খ্রিস্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সেতু হয়ে উঠবে।”
ফাদার ফিয়েল আরও বলেন, ডিজিটাল মিশনারিদের কাজ শুধু জ্ঞান, জনপ্রিয়তা বা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের আকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত নয়; বরং ভালোবাসা ও খ্রিস্টীয় দায়িত্ববোধের দ্বারা পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা যদি শুধু নিজেদের দিকে মানুষকে নির্দেশ করি, তাহলে আমরা শুধুমাত্র উদ্যোগক্তাই থেকে যাব। কিন্তু আমাদের জীবন, গল্প, সৃজনশীলতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যদি মানুষকে যিশুর দিকে পরিচালিত করে, তাহলে আমরা খ্রিস্টের সাক্ষীতে পরিণত হব।”
উদ্বোধনী খ্রিস্টযাগে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নেন, যা অ্যাসেম্বলিতে এশিয়ার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
ফাদার জন মি শেন অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে ডিজিটাল মিশনারি হিসেবে তাঁদের আহ্বান ও দায়িত্ব নিয়ে গভীরভাবে ভাবার আহ্বান জানান। তিনি পোপ পল ষষ্ঠ, পোপ জন পল দ্বিতীয় ও মাদার তেরেজার RVA ক্যাম্পাস সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁদের জীবন ও সাক্ষ্য আজকের ডিজিটাল উদ্যোগক্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণা। তাঁদের অনুসরণ করে ডিজিটাল জগতে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি সুসমাচারের সত্যিকারের সাক্ষী হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য প্রথম এশিয় ক্যাথলিক ডিজিটাল মিশনারি অ্যাসেম্বলি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত RVA প্রাঙ্গণে চলবে। এতে এশিয়ায় আরও সিনোডাল ও মিশনারি মণ্ডলী গঠনে ডিজিটাল যোগাযোগকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
এই অ্যাসেম্বলিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক ক্যাথলিক ডিজিটাল যোগাযোগকর্মী ও উদ্যোগক্তা অংশগ্রহণ করছেন।- আরভিএ সংবাদ ।
