এফএবিসির নির্জন : ‘পবিত্র আত্নার সংযোগে’ সিনোডালিটি অনুশীলন করো
গত ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , অনুষ্ঠিত (এফএবিসি) ১২তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে নির্জন ধ্যানের মূলভাব ছিলো ‘পবিত্র আত্নার সংযোগে’ এই মূলভাব,অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজিত একদিনের নির্জন ধ্যান শুধু আধ্যাত্মিক ধ্যানে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং আধ্যাত্নিকভাবে এশিয়া মণ্ডলীতে সিনোডালিটি উপলব্ধি অনুশীলনের একটা দিক তুলে ধরা হয়।
উক্ত এই নির্জন ধ্যানটি পরিচালনা করেন এফএবিসির সিনোডালিটি কমিশনের সদস্য ড. ক্রিস্টিনা খেং। তিনি বলেন, এটি কোনো আলোচনা বা বিতর্ক নয়; বরং এটি ‘সর্বজনীনভাবে প্রার্থনা‘র” একটি প্রক্রিয়া।
নির্জন ধ্যানের শুরুতেই সবাই নীরব প্রার্থনায় নিমগ্ন হন। ড. খেং অংশগ্রহণকারীদের ঈশ্বর ও একে অপরের সামনে আধ্যাত্মিকভাবে ‘জুতা খুলে রাখার’ আহ্বান জানান। তিনি মোশির জ্বলন্ত ঝোপের সামনে ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতীকী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে তারা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করছেন যেখানে ঈশ্বর উপস্থিত আছেন ।
তিনি সহোভাগিতা করেন, পবিত্র আত্নার সংযোগে’ একটি যৌথ যাত্রা, যেখানে কেউ পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আসে না। বরং প্রত্যেকে শ্রবণ, প্রার্থনা ও আত্মচিন্তার মাধ্যমে পবিত্র আত্মার পরিচালনার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত রাখে।
এই অনুশীলনটি কার্ডিনাল তাগলের ধ্যান-চিন্তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দুটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। সেতুবন্ধনকারী হয়ে ওঠার পথে তারা কী কী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছেন? এবং মিশন ও মণ্ডলীর ঐক্যের জন্য সেতুবন্ধনকারী হওয়ার বিষয়ে তারা যিশুর কাছ থেকে কী শিখতে চান?
তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধিগণ এই প্রশ্নগুলো নিজেদেরে মধ্যে আলাপ আলোচনা করেন। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো এমন একটি শ্রবণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যা একটি সিনোডাল মণ্ডলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এখানে বিতর্ক বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয় না; বরং প্রার্থনা, নীরবতা, মনোযোগী শ্রবণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে একসঙ্গে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়।
কার্ডিনাল তাগলের ধ্যান প্রার্থনার পরে ‘পবিত্র আত্নার সংযোগে’ এর উপর সহোভাগিতায় অংশগ্রহণকারীরা সকালের আধ্যাত্মিক বার্তাকে বাস্তবে অনুশীলনের সুযোগ পান। মিশন ও মণ্ডলীর ঐক্যের জন্য ‘সেতুবন্ধনকারী’ হওয়ার আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশপ, যাজক, এবং সাধারণ প্রতিনিধিরা গভীর প্রার্থনা ও মনোযোগী শ্রবণের মাধ্যমে একে অপরের অভিজ্ঞতা সহোভাগিতা করেন এবং পবিত্র আত্মার পরিচালনায় নিজের হৃদয় মন আলোকিত করেন। - আরভিএ সংবাদ।
