ফাদার চার্লস জে. ইয়াং’র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী
গত ১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা (ঢাকা ক্রেডিট)-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাদার চার্লস যোসেফ ইয়াং সিএসসি’র ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা ক্রেডিটের প্রধান কার্যালয়ে বাবু মার্কুজ গমেজ কনফারেন্স হলে ফাদার চার্লস জে. ইয়াং ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড সদস্যগণ।
স্কুল পর্যায়ে ‘নৈতিকতা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমবায়ের ভূমিকা’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল, ঢাকার শিক্ষার্থী মিশেল তেরেজা বাড়ৈ, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া জাহান রাইসা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে গাজীপুর সেন্ট মেরী’স গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মেহের আফরোজ আরাবী।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘সুপ্রতিবেশী ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় সমবায় অন্যতম একটি উপায়’ বিষয়ের উপর রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস অনুষদের শিক্ষার্থী রুমি সুলতানা।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম প্রেমা এবং জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিকাশ ইগ্নেসিউস ত্রিপুরা।
এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন রচনা প্রতিযোগিতার বিচারক সুবাস থিওফিল গমেজ এবং সুবাস পিউরীফিকেশন, ঢাকা ক্রেডিটের নেতৃবৃন্দ এবং পুরস্কার বিজয়ীদের অভিভাবকবৃন্দ।
ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট মাইকেল জন গমেজ এই প্রতিযোগিতায় যারা অংশ নিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ঢাকা ক্রেডিটের কার্যক্রম এবং চার্লস জে. ইয়াং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম হলো দেশের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য।”
তিনি আরো বলেন, “এই মহান ব্যক্তির (ফাদার ইয়াং) জীবনে এবং তার জীবনকে যেন আমরা ধারণ করতে পারি এর জন্যই এই আয়োজন।”
অনুষ্ঠানের বাবু মার্কুজ গমেজ পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পর্কে বলেন, “আমাদের এই রচনা প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ দেখে মনে হচ্ছে আমাদের মধ্যে সৃজনশীল কাজের চর্চা হারিয়ে যায়নি।”
তিনি প্রতিযোগী ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমাদের সৃজনশীল কাজে আরো মনোযোগি হতে হবে এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর প্রতি নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।”
রচনা প্রতিযোগিতার বিচারকগণ তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের উচিত তথ্য যেখান থেকে নিয়েছে তার তথ্যসূত্র উল্লেখ করা। বিচারক মন্ডলী বলেন, “কেউ কেউ অনেক লিখেছে কিন্তু লেখার প্রাসঙ্গিকতা ছিল না।”
তবে, বিচারকগণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সাধুবাদ জানান কারণ, এই যুগেও মানুষ সমবায় সম্পর্কে জানার ইচ্ছা ও লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় উপস্থিত প্রতিযোগি ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে আরো নতুন নতুন ইভেন্ট প্রতিযোগিতায় যুক্ত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
উপস্থিত প্রতিযোগীদের মধ্যে দুইজন বিজয়ী এবং একজন অভিভাবক তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং চার্লস জে. ইয়াং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।
ফাদার চার্লস জে. ইয়াং ফাউন্ডেশন বিগত চার বছর ধরে এই রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। ২০২৬ সালে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় ২৬টি জেলার ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৮ জন মেয়ে এবং ১৭ জন ছেলে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। - ডিসিনিউজ
