আরভিএ সমন্বয়কদের কর্মশালায় ঐক্য ও ভালোবাসার আহ্বান বিশপ জুনির
ফিলিপাইনে রেডিও ভেরিতাস এশিয়া বা আরভিএ-এর ভাষা পরিষেবার সমন্বয়কদের নিয়ে যোজিত কর্মশালায় গণমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে ভালোবাসা, ঐক্য এবং অভিন্ন মিশনারি দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশপ মার্সেলিনো আন্তোনিও “জুনি” মারালিত জুনিয়র।
গত ৬ অক্টোবর ক্যাভিতে প্রদেশের সিলাং-এ অবস্থিত সিস্টার্স অব মেরি, গার্লসটাউন ক্যাম্পাসে আয়োজিত অর্ধদিবসীয় ধ্যান ও নির্জন ধ্যান প্রার্থনায় তিনি এই আহ্বান জানান। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আরভিএ ভাষা পরিষেবার সমন্বয়কদের নিয়ে চারদিনের এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মশালায় মিয়ানমার থেকে ১০ জন, ভারত থেকে ৪ জন এবং বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা ও চীন থেকে একজন করে ভাষা পরিষেবা সমন্বয়কারী অংশ নেন।
ফেডারেশন অফ এশিয়ান বিশপস’ কনফারেন্সেস বা FABC-এর সোশ্যাল কমিউনিকেশন দপ্তরের চেয়ারম্যান এবং সান পাবলো ধর্মপ্রদেশের বিশপ জুনি অংশগ্রহণকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন—তাঁরা প্রথমত প্রেরিত; তারপর তাঁরা সম্প্রচারক, প্রযোজক বা যোগাযোগকর্মী।
খ্রীষ্টের আহ্বান—“আমায় অনুসরণ করো, আমি তোমাদের মানুষ ধরার জেলে করে তুলব”—এই বাণীকে সামনে রেখে বিশপ জুনি বলেন, যোগাযোগের কাজকে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে দেখতে হবে একটি মিশনারি আহ্বান হিসেবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যোগাযোগের কাজ যেন শুধুমাত্র অনুবাদ করা, সম্প্রচার করা, পোস্ট করা, সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা কিংবা ডিজিটাল অ্যালগরিদমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো দৈনন্দিন কাজে সীমাবদ্ধ হয়ে না যায়। দর্শকসংখ্যা, অনুসারী বা অনলাইন প্রতিক্রিয়ার দিকে শুধু নজর না দিয়ে প্রত্যেককে নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—“আমি আমার কাজে কতটা ভালোবাসার সাথে করেছি?”
বিশপ জুনির মতে, প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং শ্রোতা-দর্শকদের অভ্যাসে পরিবর্তন হলেও আরভিএ -এর মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়। সেই মূল লক্ষ্য হলো খ্রীষ্ট ও সুসমাচারের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, আরভিএ -এর শুধু আরও বেশি কনটেন্টের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন বিশ্বাসযোগ্য খ্রীষ্টীয় সাক্ষ্য, যা মানুষের মধ্যে মিলন, মন দিয়ে একে অপরকে শোনা, ঐক্য এবং আশার পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
যেসব মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায়ই সমাজে উপেক্ষিত থেকে যায়, তাঁদের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিশপ জুনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসী, শরণার্থী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দরিদ্র এবং সমাজের অন্যান্য প্রান্তিক মানুষ।
তিনি আরভিএ -কে “যাদের কণ্ঠস্বর নেই, তাদের কণ্ঠস্বর” হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, যোগাযোগের কাজ শুধুমাত্র তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম নয়; এর মাধ্যমে মানুষকে আরও গভীর ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে যুক্ত করা সম্ভব।
“মিশনের আগে ঐক্য”—এই ভাবনাকে সামনে রেখে বিশপ জুনি এশিয়ার বিভিন্ন ভাষা পরিষেবাগুলিকে নিজেদের আলাদা আলাদা উদ্যোগের বাইরে এসে আরভিএ -এর জন্য একটি অভিন্ন মিশনারি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
এম্মাউসের পাস্টোরাল পদ্ধতি—“পথ চলা, প্রশ্ন করা, শোনা, ব্যাখ্যা করা, রুটি ভাঙা এবং প্রেরণ করা”—এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, শোনা নিজেই একটি আধ্যাত্মিক কাজ। তিনি আরভিএ -কে “মিশনারি কণ্ঠস্বরের এক ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায়” হয়ে ওঠার আহ্বান জানান।
নির্জন ধ্যান প্রার্থনা শেষে সমন্বয়কদের উদ্দেশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন বিশপ জুনি: “আমরা কার কথা শুনছি না? আমরা কী শুনতে পাচ্ছি না? আমরা একসঙ্গে এমন কী করতে পারি, যা একা করতে পারি না?”
৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চারদিনের এই কর্মশালায় আরভিএ -এর বিভিন্ন ভাষা পরিষেবার সমন্বয়কারীরা মিশনারি পরিচয়, ডিজিটাল রূপান্তর, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং ক্যাথলিক গণমাধ্যমে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ও চিন্তন করেন।
আরভিএ -এর জেনারেল ম্যানেজার ফাদার ফেলমার ফিয়েল, এসভিডি-র নেতৃত্বে এবং আরভিএ -এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ফাদার জন মি শেন-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটির সম্পূর্ণ সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন আরভিএ -এর ডিপার্টমেন্ট অফ প্রোগ্রামস-এর সেক্রেটারি শার্লি বেনেডিক্টো।
কর্মশালার বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন আরভিএ -এর মিশনকে সহায়তা প্রদানকারী অর্থদাতা সংস্থাগুলির প্রতিনিধি মাইকেল আনল্যান্ড এবং ফ্রাঙ্ক ক্রাউস।
এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আরভিএ -এর ভাষা পরিষেবা সমন্বয়কারীদের এই সমাবেশ তাঁদের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার এবং এশিয়ায় ক্যাথলিক গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ মিশন নিয়ে একসঙ্গে চিন্তাভাবনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।
প্রতিবেদন- রেডিও ভেরিতাস এশিয়া
অনুবাদক- তেরেসা রোজারিও
