WYD সিউল ২০২৭: নিরাপদ ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ তীর্থযাত্রার আশ্বাস আয়োজকদের

জাকার্তা | ২৪ জুলাই — FABC-এর ১২তম অধিবেশন সভা চলাকালে বিশ্ব যুব দিবস (World Youth Day-WYD) সিউল ২০২৭-এর আয়োজকরা এশিয়ার মণ্ডলীর নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই আন্তর্জাতিক মিলনমেলার প্রস্তুতি শুধু অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তরুণ তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ, আন্তরিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

২৩ জুলাই রাতের খাবারের পর হোটেল মুলিয়ার ভান্ডা কক্ষে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন সভায় বিশপ ও প্রতিনিধিদের সামনে প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আবাসন, যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাস্তব বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তরেরও সুযোগ রাখা হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিউলের সহকারী বিশপ পল কিয়ং সাং লি, যিনি WYD সিউল ২০২৭-এর প্রধান সমন্বয়কারী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশপ লি কোরিয়ার ক্যাথলিক মণ্ডলীর ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, নির্যাতন, যুদ্ধ এবং দীর্ঘ শান্তি ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কোরিয়ার মণ্ডলী বেড়ে উঠেছে।

"কোরিয়ার মণ্ডলী স্বাচ্ছন্দ্যের মাটিতে নয়, বরং দুঃখ-কষ্টের মাটিতে বেড়ে উঠেছে।"

তিনি বলেন, WYD সিউল ২০২৭ কেবল একটি আন্তর্জাতিক যুব সমাবেশ নয়; এটি তরুণদের শেখাবে কীভাবে ইতিহাসের ক্ষত থেকেও আশার জন্ম হতে পারে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বাস বিকশিত হতে পারে।

আয়োজকরা জানান, WYD সিউল ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে ৩ থেকে ৮ আগস্ট ২০২৭। এর আগে ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশে "ডেজ ইন দ্য ডায়োসিসেস" (Days in the Dioceses) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া, যাতায়াত এবং আবাসনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। প্রতিটি তীর্থযাত্রীকে একটি বিশেষ পরিবহন কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সিউলের মেট্রোরেল ও বাস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে।

নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ক্যাথলিক হাসপাতালের সহায়তা, ২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসাসেবা, দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে ভিসা সহযোগিতা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল ও রিফিল স্টেশনের ব্যবস্থা।

উন্মুক্ত আলোচনায় প্রতিনিধিরা পূর্ববর্তী বিশ্ব যুব দিবসের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। একজন প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, WYD লিসবনে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল মোবাইল ফোন চার্জিং স্টেশনের স্বল্পতা।

জবাবে ফা. লি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

"পর্যাপ্ত শৌচাগার, প্রয়োজনে অস্থায়ী শৌচাগার এবং মোবাইল ফোন চার্জিং স্টেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।"

আবাসনের বিষয়েও প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বুকিং সম্পন্ন করা হবে, যাতে প্রত্যেক তীর্থযাত্রী তাদের সংরক্ষিত সময়জুড়ে আবাসনের নিশ্চয়তা পান এবং নতুন দলকে স্বাগত জানানোর জন্যও যথেষ্ট প্রস্তুতির সময় থাকে।

আয়োজকদের ধারণা, WYD সিউল ২০২৭-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক তীর্থযাত্রী অংশ নেবেন। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা পবিত্র সিংহাসনের (Holy See) সঙ্গে সমন্বয় করে নিবন্ধনের ওপর নির্ভর করবে।

সভা শেষে বিশপ পল কিয়ং সাং লি এশিয়ার মণ্ডলীগুলোকে এখন থেকেই তাদের তরুণদের এই আন্তর্জাতিক মিলনমেলার জন্য প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

"সিউল আপনাদের তরুণদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। আপনাদের সবার সঙ্গে সিউলে দেখা হবে বলে আশা করছি।"

এই ওরিয়েন্টেশন সভা প্রমাণ করেছে যে, WYD সিউল ২০২৭-এর আয়োজকরা শুধু সফল আয়োজনই নয়, বরং স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বজুড়ে আগত তরুণ ক্যাথলিকদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং গভীর আধ্যাত্মিক তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Bengali pop up image