হাসেনবেগপুর পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীর নবনির্মিত গির্জা ও যাজক ভবনের শুভ উদ্বোধন ও আশীর্বাদ
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাজশাহী কাথলিক ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত হাসেনবেগপুর পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীর নবনির্মিত গির্জা ও যাজক ভবনের শুভ উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করা হয়।
এই দিনটি ছিল ধর্মপ্রদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন কারণ পবিত্র ক্রুশ কোয়াজি ধর্মপল্লীকে একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লীতে ঘোষণা ও ধর্মপল্লীর নবনির্মিত গির্জা ও যাজক ভবনের উদ্বোধন ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত পোপের প্রতিনিধি, বিশপ, যাজক, সিস্টার, ব্রাদার, ধর্মপল্লীবাসী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডাল, বাংলাদেশে নিযুক্ত পোপের প্রতিনিধি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি, সংঘ প্রদেশপাল, পবিত্র ক্রুশ যাজক সংঘ বাংলাদেশ, ফাদার টমাস যোসেফ একার্ট, সিএসসি, হলি ক্রস মিশন সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র-এর পরিচালক এবং ফাদার উইলিয়াম মুর্মু।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাগত নৃত্যের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করা হয় এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি অনুসারে পা ধুয়ে ও ফুলের মালা দিয়ে তাদের বরণ করা হয়।
প্রথমে প্রার্থনার মাধ্যমে নবনির্মিত যাজক ভবন উদ্বোধন ও আশীর্বাদ করা হয়। প্রধান অতিথি আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডাল এবং ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি যৌথভাবে ভবনটির উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে বিশপ জের্ভাস রোজারিও ও আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডাল যাজক ভবনটি আশীর্বাদ করেন।
নবনির্মিত গির্জার উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শান্তি, আনন্দ ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে বেলুন, ফেস্টুন এবং পায়রা উড়ানো হয়। আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডাল ও ফাদার টমাস যোসেফ একার্ট, সিএসসি গির্জার উদ্বোধন করেন, এবং জের্ভাস রোজারিও প্রধান দরজা উন্মুক্ত করে গির্জাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আশীর্বাদ করেন।
এই বিশেষ দিনে পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও এবং অনেক যাজক তাঁর সঙ্গে সহ- পৌরহিত্য করেন।
বিশপ তাঁর উপদেশ বাণীতে ঈশ্বরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই মহান উপহারের জন্য, যা অসংখ্য দাতা, উপকারী বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের উদার সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই নতুন গির্জা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশা, ভালবাসা ও সেবার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
পবিত্র খ্রিষ্টযাগের পর একটি সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় এবং তাঁরা তাদের অনুভূতি ও বার্তা সহভাগিতা করেন।
প্রধান অতিথি আর্চবিশপ কেভিন এস. রান্ডাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই নতুন গির্জা পবিত্র খ্রিষ্টযাগ উদযাপনের জন্য একটি স্থায়ী পবিত্র স্থান, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঈশ্বরের জনগনকে পবিত্র করে তুলবে। তিনি পূণ্য পিতা পোপের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানান।”
বিকালে একটি মনোজ্ঞ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এই উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাজক, ধর্মব্রতী সিস্টার ও ব্রাদার, ধর্মপল্লীবাসী এবং প্রতিবেশী ধর্মপল্লী থেকে অনেক খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন, যা এই অনুষ্ঠানকে একটি স্মরণীয় ও অনুগ্রহপূর্ণ উপলক্ষে পরিনত করে। - ফাদার সুশীল সরেন, সিএসসি