মণ্ডলীর লক্ষ্য খ্রিস্টবিশ্বাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা:কার্ডিনাল পাবলো ডেভিড

"আমাদের প্রধান লক্ষ্য শুধু ক্যাথলিকের সংখ্যা বাড়ানো নয়।" কার্ডিনাল পাবলো ডেভিড

জাকার্তা | ২৪ জুলাইএশিয়ায় ক্যাথলিক মণ্ডলীর সাফল্য কতজন নতুন বিশ্বাসী যুক্ত হলো, তা দিয়ে নয়; বরং মানুষকে মর্যাদা দেওয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং সবার কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই পরিমাপ করা উচিত।

জাকার্তার হোটেল মুলিয়ায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এশিয়া আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, রাজনৈতিক মেরুকরণ, নতুন করে জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দুর্বলতা সমাজকে আরও বিভক্ত করে তুলছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই মণ্ডলীকে শান্তি, সংলাপ এবং পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

কার্ডিনাল ডেভিড বলেন, বিশ্বায়ন যখন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তখনও ক্যাথলিক মণ্ডলী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বৈশ্বিক সম্প্রদায় হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

"আমাদের প্রধান লক্ষ্য শুধু ক্যাথলিকের সংখ্যা বাড়ানো নয়।"

তিনি বলেন, সুসমাচার প্রচারের প্রকৃত অর্থ হলো প্রতিটি মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করা। কারণ প্রত্যেক মানুষই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি ও সাদৃশ্যে সৃষ্ট। তাই মণ্ডলীর আহ্বান কেবল খ্রিস্টানদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির সঙ্গে মিলে ন্যায়বিচার, সংহতি ও শান্তির সমাজ গড়ে তোলা।

"আমাদের আহ্বান হলো পৃথিবীকেই স্বর্গের মতো করে তোলা।"

কার্ডিনাল ডেভিডের মতে, যেখানে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা হয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শান্তি বিকশিত হয়, সেখানেই ঈশ্বরের রাজ্য দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কোনো ধরনের আধিপত্য বা বিশেষ সুবিধা না চেয়েও মণ্ডলী সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। জাকার্তার আর্চবিশপ কার্ডিনাল ইগনাতিয়ুস সুহার্যো হার্দজোআতমদজো সাধারণ কল্যাণ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সৃষ্টির যত্ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কার্ডিনাল ডেভিড আরও বলেন, এসব মূল্যবোধ কেবল ক্যাথলিকদের নয়; সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য। তিনি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দর্শন পঞ্চশীলা (Pancasila)-এর প্রশংসা করে বলেন, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বৈচিত্র্যের মধ্যে একসঙ্গে বসবাসের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

"আমাদের জাতি, সংস্কৃতি বা ধর্ম যাই হোক না কেন, আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মানবমর্যাদা রক্ষা করা।"

কার্ডিনাল ডেভিড বলেন, FABC-এর ১২তম অধিবেশন সভা বারবার একটি বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—মণ্ডলীর প্রকৃত আহ্বান বিভাজন সৃষ্টি করা নয়, বরং মানুষে মানুষে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এবং আরও মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ নির্মাণে অবদান রাখা।

 

Bengali pop up image