রাখী বন্ধন উৎসব

সকলকে রাখী উৎসবের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা...  

শুভ হোক রাখীর এই অটুট বন্ধন  

স্নেহের বন্ধন হোক আরও দৃঢ়।

রাখীবন্ধন উৎসব ভারতের একটি উৎসব। এই উৎসব ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব।এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের প্রতীক।ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ে সহোদর ভাইবোন ছাড়াও জ্ঞাতি ভাইবোন এবং অন্যান্য আত্মীয়দের মধ্যেও রাখীবন্ধন উৎসব প্রচলিত।অনাত্মীয় ছেলেকেও ভাই বা দাদা মনে করে রাখী পরানোর রেওয়াজ রয়েছে।

শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। বিভিন্ন পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক গল্প প্রচলিত আছে এই রাখী অনুষ্ঠানটি ঘিরে।

চিতোরের বিধবা রানী  কর্ণবতী মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাহায্য প্রার্থনা করে একটি রাখী পাঠিয়েছিলেন। এর পর থেকে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন (Raksha Bandhan) উৎসব পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা, ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু- মুসলিম ভাই ও বোনকে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসাবে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য। উনিশ শতকে আমাদের বাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চরম পর্যায়ে উঠেছিল, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে অপরিমিত ভয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯০৫ সালের জুন মাসে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯০৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গভঙ্গ জন্য আইন পাশ করা হয়। এই আইন কার্যকরী হয় ১৬ ই অক্টোবর, ১৯০৫। তাই ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে হিন্দু ও মুসলিম এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা আনার জন্য রাখী বন্ধন উৎসব পালন করা হয়েছিল।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এই দিনটির উদ্দেশে একটি গান লিখেছিলেন।

"বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার ফল-

পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান।

বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ-

পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান।

বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা –

সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান।

বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন –

এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান।"

রাখী বন্ধন উৎসবের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতী মিলেমিশে এক জাতীতে পরিণত হয়। কবি রবীন্দ্রনাথ যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এই রাখী বন্ধন উৎসবের প্রচলন করেছিলেন তা সম্পূর্ণ রূপে সার্থক হয়েছে। ইংরেজদের কূটনীতিতে বাংলা একদিন দু-টুকরো হয়েছে। ইংরেজরা ভারত ছেড়ে যাওয়ার সময় ভারতবর্ষকে দুভাগে ভাগ করে দিয়ে যায়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বাংলাকে দেশের দিক থেকে ভাগ করা গেলেও মনের দিক থেকে বা মানসিক দিক থেকে আলাদা করা যায়নি। 

আজ, সীমান্তে দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সৈন্যদের নারীরা রাখী বাঁধে কারণ তারা বাইরের শক্তির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। 

পারস্পরিক শত্রুতা দূর করতে বর্তমানে অনেক রাজনীতিবিদ একে অপরকে রাখী বাঁধছেন।পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় রাখী উপলক্ষে গাছ-গাছালিতেও রাখী বেঁধেছেন মানুষ। 

রাখী উৎসব ভাই বোনকে আবেগের সাথে সংযুক্ত করে। রাখী ভাই-বোনের উত্‍সব হিসেবে মনে করা হলেও ইতিহাসে কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে পুরুষকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতীক হিসেবে তার কবজিতে সুতো বেঁধে দিতেন মহিলারা। এটাই পরে রাখী বন্ধন উত্‍সবের চেহারা নেয়। 

রাখীর এই সুতো আরও মজবুত করে তুলবে ভাই-বোনের ভালোবাসার বন্ধন। ‘রাখী বন্ধন তাই নয়, শুধু উপহারের বিনিময়, রাখি বন্ধন একসূত্রে বাঁধে ভালোবাসার হৃদয়’। স্বর্গীয় পবিত্র বন্ধন এই রাখী যা শুধু অন্যের মঙ্গল কামনায় ও রক্ষার বাহ‍্যিক প্রতীক  চিহ্ন যার আজ খুবই প্রয়োজন।

 

বিঃদ্র- উইকিপিডিয়া ও অনান্য গণসংযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য সংগৃহীত

ফাদার সৌমিত্র মাখালের প্রতিবেদন

Add new comment

1 + 0 =