সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা

ভৌগলিকগত কারণে সিলেট জেলাটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খুবই নিকটে।

 এ জেলা দিয়ে পিয়াইন, লোভা, বরাক, বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাছাড়া বরাক, কুশিয়ারা ও সুরমা এ তিন নদীর মিলন স্থলও এ জেলাতেই।

ভারতের  আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের ছেড়া পুঞ্জি এলাকায় টানা বর্ষণ হলেই সিলেট জেলা তথা সিলেট  বিভাগে আকষ্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি  প্রতি বছর একাধিক বার কম বেশি ঘটে থাকে।

চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝিতে সিলেট জেলা বাসী একটি ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়ে এখনও পুনর্বাসন বা পূনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতে ছিল; ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৫ মে ২০২২ খ্রীঃ হতে টানা ভারী বর্ষণের ফলে সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা ও হবিগঞ্জের জেলার নবীগঞ্জ, আজমীরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলা মরাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 এ সকল এলাকার প্রায় ৯৮ ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে  নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ পানি বন্দী  হয়ে পড়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘরের ভিতর মাচাং তৈরী করে, কেউ উঁচু রাস্তার ধারে, কেউ দূরবর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে অস্থায়ী ভাবে অবস্থান করে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

 প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করে পর্যাপ্ত খাদ্য ওপানি-পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

 ভেঙ্গে গেছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসল-ফলাদি, সবজি বাগান, নিরাপদ পানির উৎস, অধিকাংশ এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুত ও মোবাইল যোগাযোগ।

উদ্ধার তৎপরতা ও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য বন্যা কবলিত এলাকায় সেনা, নৌ ও পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। এ ছাড়াও ১৪০ টি মেডিকেল টীম বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে।

পর্যাপ্ত সেবা ও পুষ্টিকর খাদ্য থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ। জল মগ্নতার কারণে পর্যাপ্ত জিনিস পত্রের সরবরাহ না থাকায় বাজার ব্যবস্থাও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, বেড়ে গেছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রবমেূল্যর দাম।

বাজার গুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে ,শুকনো খাবারের যেমন: চিড়া, মুড়ি ,গুড় ইত্যাদির। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সুত্রে জানা গেছে  ২৬ হাজার প্যাকেট খাবার সিলেট বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রতিপ্যাকেটে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি ইত্যাদি  । এতে  পাঁচ  সদস্যের একটি পরিবারের এক সপ্তাহ চলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

তাছাড়াও সিলেট জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্ম কর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন ইতিমধ্যে ৪৩২ মেট্রিকটন চাল ও ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জেলায় বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষের জরুরী চাহিদা মেটানোর জন্য ৩২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৯ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলা উপজেলাতে কন্ট্রোলরুম খোলাহয়েছে। বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলেও যাতায়াত ব্যবস্থা ও যানবাহনের তীব্র সংকটের কারণে জনগণের নিকট পৌঁছতে বিলম্ব হচ্ছে।

কারিতাস বাংলাদেশ-সিলেট অঞ্চল বন্যা কবলিত এলাকার অবস্থা  তুলে ধরে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রিয় অফিসে আপডেট রিপোর্ট  জমা  দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  সেক্টরের কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. ডানিয়েল ধৃতু।

বন্যা কবলিত এলাকায় কারিতাসের ফেইজ আউট বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মী ও স্বেচ্ছা সেবকগণ জনগণেরপাশে থেকে সেবা কাজে সহায়তা করছেন যেমন: আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে যোগাযোগ, সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ ইত্যাদি।

ইতোমধ্যে   কেন্দ্রিয় কার্যালয়ের নির্দেশনাঅনুসারে একটি র‌্যাপিড নীড এসেসমেন্ট করেছেন কারিতাস সিলেট অঞ্চল।

 কারিতাস সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক মি. বনিফাস খংলা জানিয়েছেন আমরা কেন্দ্রিয় কার্যালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক  যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছি ।

আশা করছি  দাতা সংস্থার  অনুমোদন পেলে আমরা বানভাসি মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো। তিনি আর ও বলেন, এ অঞ্চলের জরুরী বরাদ্দ তহবিল দিয়ে জামাল গঞ্জের  দু-একটি আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণের জন্য  আমাদের টীম কাজ করছে।

 

সহযোগীতায় -  ব‌নিফাস খংলা, আরডি, কা‌রিতাস সিলেট অঞ্চল।

সংবাদ -  সিষ্টার মেরীয়ানা গমেজ আরএনডিএম।

Add new comment

5 + 2 =