সকল সদস্যদের কাছে কলকাতার আর্চবিশপ টমাস ডি’সুজা'র পালকীয় পএ

খ্রীস্টতে আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

১। পরিচিতিঃ ‘সিনোড’ একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ একসঙ্গে হাঁটা/যাত্রা করা’। এইভাবেই প্রাথমিক মণ্ডলী তার সাক্ষী জীবন যাপন করেছিলঃ একসাথে আসা, একে অপরের কথা শোনা, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং লালন করা, ভাগ করা। পোপ ফ্রান্সিস ২০২৩ সালের অক্টোবরে, রোমে অনুষ্ঠিত ১৬তম সাধারণ সিনোডের জন্য মুল সুরটি (থিম) নিয়েছেনঃ “একটি সিনোডাল মণ্ডলীর জন্যঃ সম্প্রীতি (কমিউনিয়ন), অংশগ্রহণ এবং মিশন”

২। সিনোডের লগ/প্রতিক – একটি অর্থপূর্ণ প্রক্রিয়ার আন্ত-সম্পর্কিত মাত্রা সমষ্টি করে। এতে লোকেরা সবাই একই শ্রেণীতে রয়েছেঃ তরুণ, বৃদ্ধ, পুরুষ, মহিলা, কিশোর, শিশু, সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় মানুষ, বাবা, মা, দম্পতি, একক ব্যক্তি, সুস্থ প্রতিবন্ধী, বিশপ, পুরোহিত, এবং সিস্টারগণ তাদের সামনে নয় বরং তাদের মধ্যে আছেন।

পোপ ফ্রান্সিস কামনা করেন যে পুরো মণ্ডলী ক্রমাগত ‘সিনোডাল’ ভাবে জীবনযাপন করে এবং চান যে প্রত্যেক বাপ্তাইজ ব্যক্তি সিনড সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকুক। অতএব এই সিনোডের জন্য প্রস্তুতির জন্য একটি দীর্ঘ সময় ঘোষণা করা হয়েছে; ভ্যাটিকানে এর শুরু – ৯ – ১০ অক্টোবর ২০২১, পোপ ফ্রান্সিসের উদ্বোধন; অক্টোবর ১৭, ২০২১ঃ বিশ্বের প্রথম ডায়োসিসের উদ্বোধন; অক্টোবর ২০২১ – এপ্রিল ২০২২। ডায়োসেসান পর্যায় পরামর্শ নেওয়া; এপ্রিল ২০২২ – সেপ্টেম্বর ২০২২ঃ জাতীয় সম্মেলন সেপ্টেম্বর ২০২২ – এপ্রিল ২০২৩ঃ মহাদেশীয় সম্মেলনঃ অক্টোবর ২০২৩ঃ রোমে বিশপ ও প্রতিনিধিদের সম্মেলন।

প্রস্তুতিমূলক সভাঃ

ক) ১৭ অক্টোবর ২০২১ এর আগেঃ সচেতনতা গড়া, অ্যানিমেশন, প্রশিক্ষণঃ ডায়োসেসন কমিশনের সদস্যদের জন্য, অক্টোবর ৬, ২০২১, চারটি ডিনারিতে পুরোহিত ও সিস্টারদের জন্যঃ ১১ – ১৬ অক্টোবর ২০২১।

খ) ১৭ অক্টোবর ২০২১ এর পরে জোনাল এবং প্যারিশ স্তরে পরামর্শ প্রদান।

৬) ২০২১ সালের ১৭ই অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ডায়োসিসে সিনোডের উদ্বোধনঃ কলকাতা আর্চডায়োসিসে সিনোডের উদ্বোধন হবে সকাল ১০ টায় পবিত্র খ্রীস্টযাগের মাধ্যমে।

৭) রোমের সিনোড সচিবালয় দশটি বিষয় প্রস্তাব করেছে যার সাথে তিন স্তরিয় প্রস্তাব রয়েছেঃ শ্রবন, সংলাপ, অংশগ্রহণ। বিষয়বস্তু হলঃ ১) যাত্রায় সঙ্গী ২) শ্রবণ ৩) কথা বলা ৪) উদযাপন ৫) আমাদের সাধারণ মিশনের জন্য দায়িত্ব ভাগ করা ৬) মণ্ডলী এবং সমাজে সংলাপ ৭) একুমেনিজম ৮) কর্তৃপক্ষ এবং অংশগ্রহণ ৯) বিচক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া ১০) নিজেদেরকে সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ করে তোলা ও আলোচনার মাধ্যমে সিনোডালটিতে নিজেদের গঠন করা।

নভেম্বর এবং ডিসেম্বর ২০২১ এবং জানুয়ারি মাসে ২০২২, এই থিম এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলি স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং প্রাসঙ্গিক করা হবে, জোনাল স্তরে (৩-৪ প্যারিশের ক্লাস্টার) ডিনারি এবং প্যারিসে প্যারিশ প্যাস্টরাল দলের সাথে আলোচনা করা হবে; কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশান, সেল, স্কুল, এবং ধর্মীয় কমিউনিটি, সেমিনার এবং ফর্মেশন হাউস ইত্যাদি যাতে সবাই এই সিনোডালটি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকে। আর্চডিওসেসন সিনডো টিম ও যোগাযোগকারী ব্যক্তিদের সার্বিক নেতৃত্বে, প্যারিসে ডিন, প্যারিশ পুরোহিত, ধর্মীয় এবং অংশগ্রহণমূলক কাঠামো, প্যারিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানদের সহায়তায়, এই সমগ্র সিনোডাল প্রক্রিয়াটিকে সহজ, ব্যবহারিক এবং ফলপ্রসূ করার জন্য সচেষ্ট হবে।

৮) ডায়োসেসান স্তরে প্রাক – সিনোডাল সভা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর ১৪ ও ১৫ তারিখ (শুক্রবার ও শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি স্তরে সিনোডের ডায়োসেসান পর্বে আর্চবিশপের সাথে সমস্ত প্রতিনিধিদের (জসাধারণ, পুরোহিত এবং সিস্টারদের) অভিজ্ঞতা অব্যাহত থাকতে হবেঃ পবিত্র আত্মার নির্দেশনায় শুনতে, আলছনার মাধ্যমে বুঝে নিতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৯) সম্প্রীতি, অংশগ্রহণ এবং মিশনঃ এগুলো হল বাস্তবিক বাস্তবিকতা। কমিউনিয়ন হল সাধারণ ঐকতা, সবার সাথে মেলামেশা, কাউকে বাদ দিয়ে নয়! আমাদের সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা, একচেটিয়াতাকে অতিক্রম করার অনুগ্রহ – বিশেষত ক্ষতিগ্রস্ত, সর্বনিম্ন এবং শেষ পর্যন্ত অন্যদের কাছে পৌঁছনো। এটা খোলাখুলি উপলব্ধি করা যে সবাই আমার বোন এবং ভাই।

অংশগ্রহণ হল এই উপলব্ধি করা যে আমি একটা ‘জিগজগ’ ধাঁধাঁর (ঢ়ুুঁষব) একটি অপরিহার্য অংশ। ছবিটি ‘আমি’ এবং ‘আপনি’ ছাড়া কখনই সম্পন হয় না ! প্রকৃত অংশগ্রহণ তখনই হয় যখন অন্যদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

মিশনঃ এগিয়ে যাওয়া এবং প্রেরণ করাঃ এটি এমন একটি যাত্রা যা আমরা সকলেই হাতে তুলে নেবো। এর অর্থঃ নিজেদের থেকে বেরিয়ে যাওয়াঃ আমাদের নিরাপত্তা, বিভেদ, বৈষম্যমূলক মনভাব, অহংকার, আগ্রাসন, ঘৃণা এবং সহিংসতা। আমাদের এগিয়ে জাওয়ার জন্য বলা হয়েছেঃ দেয়ালের পরিবর্তে সেতু নির্মাণ করা, নিরাময় এবং ক্ষত নয়, ভালবাসতে এবং ঘৃণা করতে নয় ! মিশন একটি সাধারণ পরিবারের জন্য একসাথে যাত্রা করা যেখানে ন্যায়, স্বাধীনতা, সমতা, ভাতৃত্ব, ভালবাসা, আনন্দ, এবং শান্তি হবে সবার অধিকার। এই যাত্রায় অসুবিধা হবে কিন্তু এক এক জনকে অবশ্যই হাঁটতে হবে – যতক্ষণ পৃথিবীতে আমাদের তীর্থযাত্রা শেষ হবে !

উপসংহারঃ  সকল খ্রীস্ট ভক্তদের এই পরামর্শকে পরিচালিত করে এমন একটি মৌলিক বিষয় হলঃ “একটি সিনোডাল মণ্ডলী, মঙ্গলসমাচার ঘোষণা করার সম্য, ‘একসাথে যাত্রা’ঃ” আজ আমাদের আর্চডিওসিসে কীভাবে ‘একসাথে যাত্রা’ হচ্ছে? আমাদের ‘একসাথে যাত্রা’ করার জন্য পবিত্র আত্মা আমাদের কী পদক্ষেপ নিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ? একটি সিনোডাল মণ্ডলীর জন্য আমাদের পবিত্র পিতার স্বপ্ন আমাদের সমস্ত পরিবার, প্যারিস এবং আর্চডিওসিসে একটি বাস্তবতা হয়ে উঠুক, যখন আমরা ‘একসাথে যাত্রা’ প্রক্রিয়া শুরু করি। মা মারীয়া, মণ্ডলী মাতা, এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকুন।

১১)  সিনোডের জন্য নিম্নলিখিত প্রার্থনাটি প্রতিটি পরিবার ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ে আবৃত্তি করবে। আসুন আমরা পবিত্র স্যাক্রামেণ্টের আরাধনা, পবিত্র জপমালা প্রার্থনা, ইত্যাদির মাধ্যমে সিনোডকে সমর্থন করি।

হে পবিত্র আত্মা, আমরা তোমার সম্মুখে উপস্থিত (আদসুমুস সাংতে স্পিরিতুস)

হে পবিত্র আত্মা, আমরা তোমার সামনে উপস্থিত হয়েছি।

আমরা তোমার নামে একত্রিত হয়েছি।

তুমি-ই আমাদের একমাত্র পথপ্রদর্শক হয়ে,

আমাদের অন্তরে বিরাজ করো;

আমাদেরকে শেখাও কোন পথে আমাদেরকে চলতে হবে,

এবং কীভাবে আমরা তা অনুসরণ করবো,

দুর্বল পাপী মানুষ আমরা,

আমরা যেন বিশৃঙ্খলা না ছড়ায়;

অজ্ঞানতা যেন আমাদের বিপথে চালিত না করে,

বা কোনো পক্ষপাতিত্ব যেন আমাদের কাজকর্মে প্রভাব না ফেলে।

তোমার মধ্যেই যেন আমরা পাই-ই আমাদের একতা;

যাতে আমরা একত্রে অনন্ত জীবন-যাত্রা করতে পারি;

যেন সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে,

আমরা যেন একসাথে চলতে পারি সেই চিরন্তন জীবনের জাত্রাপথে।

এই সকল প্রার্থনা তোমার কাছে রাখি,

কারণ পিতা ঈশ্বর ও তাঁর পুত্রের সহভাগীতায়,

তুমি রয়েছো সদা কর্মময়,

সর্বকালে ও সর্বস্থানে, যুগে যুগান্তরে ।

আমেন।

 

কলকাতার আর্চবিশপ + টমাস ডি’সুজা

৩২, মাদার তেরেসা সরণি, কলকাতা – ৭০০ ০১৬,

৯ অক্টোবর ২০২১

Add new comment

1 + 1 =