মহাপ্রয়াণে পবিত্র ক্রুশ সংঘের উজ্জ্বল নক্ষত্র ফাদার উইলিয়াম রিচার্ড টিম, সিএসসি

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দে, যুক্তরাষ্ট্রে  ৯৭ বছর বয়সে ঈশ^রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বর্গবাসী হয়েছেন পবিত্র ক্রুশ সংঘের উজ্জ্বল নক্ষত্র ফাদার উইলিয়াম রিচার্ড টিম, সিএসসি |

বাংলাদেশের পরম বন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের মহাশক্তি ও সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী,  ‘র‌্যামন ম্যাগসেসাস’ পুরস্কারপ্রাপ্ত, নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ এবং যীশুর একনিষ্ঠ সেবক ও বাংলাদেশের সকল মানুষের বন্ধু ফাদার উইলিয়াম রিচার্ড টিম, সিএসসি ।

ফাদার রিচার্ড টিম-এর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের মিশিগান শহরে ২ মার্চ, ১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দে। বাবার নাম যোসেফ এবং মায়ের নাম যোসেফিন। তারা দুই ভাই, দুই বোন। তার বড় ভাই দেড় বছরের বড়। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা যান। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি মিশনারী জীবনের আহ্বান পান।

তিনি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে মাষ্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৪০ খ্রীষ্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বর সেমিনারীতে প্রবেশ করেন। এক বছর Rolling Prairie Novitiate করার পর ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দের ১৬ আগষ্ট প্রথম ধর্মীয় ব্রত গ্রহণ করেন এবং প্রচলিত তিনটি ব্রত দরিদ্রতা, বাধ্যতা ও কৌমার্য ব্রতের পাশাপাশি Foreign Mission-এ কাজের জন্য চতুর্থ ব্রত গ্রহণ করেন।

অতপর তিনি ১৯৪৯ খ্রীষ্টাব্দের  জুন মাসের ৮ তারিখে যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন। যাজক হয়ে তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজের আমন্ত্রণে ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং নটর ডেমে কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ শুরু করেন। সেই ১৯৫২-২০১৬ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন।

নটর ডেম কলেজের তিনি ছিলেন বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, ডিন অব স্টাডিজ, বায়োলজির প্রফেসর (Lecturer) এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সঞ্চালক। সেই সময় তিনি একটি বই লিখেন ‘টেক্সট বুক অব কলেজ বায়োলজি’ যা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সব কলেজেই পড়ানো হত। তিনি নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি বাৎসরিক বিজ্ঞান মেলা, ডিবেটিং ক্লাব এবং আরো নানা সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে ছাত্রদের মনোবৃত্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করেছেন।

তিনি বনানীতে অবস্থিত পবিত্র আত্মার উচ্চ সেমিনারীতেও Moral Theology, Justice and Peace, Social Analysis এই বিষয়গুলোও পড়িয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার পর পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ণ ও সম্পাদনায় কাজ করেছেন।

তিনি প্রায় ২৫০ নতুন ধরণের নেমাটোড আবিস্কার করেছেন, যাকে রাউন্ড ওয়ার্ম বা গোল কৃত্রি বলা হয়। একদিন উপলব্ধি করলেন পোকা মাকড় আর কৃত্রি নিয়ে গবেষণা না করে মানুষের জীবন নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার পর তিনি শিক্ষা, সমাজ উন্নয়ন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। তার সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ খ্রীষ্টাব্দে ফিলিপাইন থেকে ‘র‌্যামন ম্যাগসেসাস’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এই মহান ব্যক্তি বিগত ৫৯ বছর যাবৎ এই বাংলাদেশকে ভালবেসে বাংলার মানুষকে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে গেছেন।

ফাদার উইলিয়াম রিচার্ড টিম, সিএসসি একাধারে একজন মিশনারী, শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, মানবাধিকার কর্মী এবং অসংখ্য মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ এক ব্যক্তি।

তাঁর মহাপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর বিদেহী আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।

 

Add new comment

11 + 4 =