বারুইপুর ধর্মপ্রদেশের ক্যাথিড্রালে খ্রীষ্টরাজার মহা শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হল

বারুইপুর ধর্মপল্লীর পুরোহিতদের পরিচালনায় গত ২৬ শে নভেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে ক্যাথিড্রালে খ্রীষ্টরাজার  শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান খ্রীষ্টযাগের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। খ্রীষ্টযাগে পৌরহিত্য করেন মাননীয় বিশপ শ্যামল বোস।

উপদেশে বিশপ মহোদয় বলেন," রাজাধিরাজ যীশু খ্রীষ্ট হলেন সর্বজনীন রাজা। সকল জাতি সকল শ্রেণীর অধীশ্বর। আজ স্বয়ং তিনি পরম প্রসাদ রূপে আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন। পবিত্র শোভাযাত্রায় আমাদের সঙ্গে সামিল হবেন। তাই জীবিত যীশুর উপস্থিতিকে উপলব্ধি করে আমাদের জন সমক্ষে সেই বিশ্বাসের সাক্ষী দিতে হবে যে যীশুই সর্ব কালের একমাত্র অধীশ্বর। জগতের রাজার রাজা"।

বারুইপুর  ধর্মপল্লীর, সোনারপুর, কল্যানপুর, হোগল কুড়িয়া, ক্যানিং বিভিন্ন জায়গা থেকে খ্রীষ্টবিশ্বাসীগণ খুব উৎসাহ নিয়ে ক্যাথিড্রালে জমায়েত হয়। এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে এই পদযাত্রাটিকে সাফল্য মন্ডিত করে।

খ্রীষ্টযাগের শেষে বিশপ শ্যামল পোপ মহোদয়ের বার্তা অনুসারে আগামী ২০২৫ সালে  খ্রীষ্টের ২০২৫ তম জন্মজয়ন্তী তথা জুবিলী বর্ষের সূচনা পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ঘোষণা করেন। জুবিলী প্রার্থনা উচ্চারণ করান ফ: গৌতম নস্কর।

এরপর বিকাল ৪ টে নাগাদ পবিত্র সাক্রামেণ্ট নিয়ে জনপদে শোভাযাত্রা শুরু হয় যীশু আমার হৃদয় রাজ্যে রাজা হয়ে বস হে...এই গানের ছন্দে।

উক্ত পল্লীর মাননীয় ধর্মপাল, পুরোহিত বর্গ, ব্রাদার, সিস্টার বা ধর্মব্রতী নর নারী, সেমিনারিয়ান ও সাধারণ ভক্ত মণ্ডলী নিজ নিজ প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে পরম প্রসাদ রূপী স্বয়ং যীশুর সাথে পথ পরিক্রমায় সামিল হন।

জপমালা প্রার্থনা, গান, নাচ ও খ্রীষ্ট রাজের জয়ধ্বনি দিতে দিতে শোভাযাত্রা এগিয়ে যায়। স্বেচ্ছাসেবী যুবাদের সহযোগিতায়  যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে শোভাযাত্রা বিকেল ৫ ঘটিকায় হলিক্রশ স্কুল প্রাঙ্গনে  সমাপ্ত হয়।

এরপর সমবেত ভক্ত মণ্ডলীর উদ্দেশ্যে ঐশ বাণী ঘোষণা ও তার ব্যাখা, পবিত্র সাক্রামেন্টের  আরাধনা শুরু  হয়। সন্ধ্যে ৬ টা নাগাদ পরম প্রসাদ রূপী খ্রীষ্টরাজার নিকট আত্মোৎসর্গ অনুষ্ঠান শেষ হয় ।

এরপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন শেষে সকল ভক্ত বৃন্দের জন্য চা জলযোগের ব্যাবস্থা করা হয়। প্রতিবেদন: ফা: গৌতম নস্কর, অনুলেখন: চন্দনা রোজারিও

Add new comment

17 + 3 =