বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের প্লাটিনাম জুবিলী পালন

গত ২০-২১ জানুয়ারি ঢাকাস্থ খ্রিস্টান মিশনারী স্কুল বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের প্লাটিনাম জুবিলী পালিত হয়েছে। বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের তেজগাঁও  ধর্মপল্লীর  অধীনে অবস্থিত।

জুবিলী উপলক্ষে প্রথম দিনের অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুবিলীর ফলক উন্মোচন করেন।

জাতি গঠনে বিদ্যালয়টির অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২য় বিশ্বযোদ্ধের পর পর অনাথ শিশুদের নিয়ে শুরু করা এই স্কুল আজ এই তোজগাঁও অঞ্চলের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। সমাজে নারীদের অবদানের কথাও তিনি তুলে ধরেন তার বক্তব্যে।   

দিনটিকে কেন্দ্র করে স্কুলের প্রাঙ্গণ স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

বর্ণিল এই আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি’ক্রুজ ওএমআই । এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী সুপ্রীতি এসএমআরএ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সিস্টার দিপ্তী এসএমআরএ, স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফাদার সুব্রত বি. গমেজ, বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও, ঢাকা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট ইগ্নাসিওস হেমন্ত কোড়াইয়া, বটমলী স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী সংসদ সদস্য শবনম জাহান এমপি, ঢাকা ক্রেডিটের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাবু মার্কুজ গমেজ, হাউজিং সোসাইটির সেক্রেটারি ইমানুয়েল বাপ্পী মন্ডলসহ স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।

প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ৭৫ বছরের জুবিলী উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে জুবিলীর ফলক, স্মরণিকা মোড়ক উন্মোচন করেন ।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের ১ এপ্রিল কয়েকজন অনাথ নিয়ে বটমলী স্কুলের পথচলা শুরু হয়।

১৯৪৬-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক সিস্টার পের্পেতুয়া সিএসসি প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অনুমতি লাভের পর থেকে উচ্চবিদ্যালয় হিসেবে স্কুলটি আজোবধি শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে সিস্টার মারীয়া গরেটি ১৯৬৮-৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১-৭২ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার এলজিয়া আরএনডিএম, ১৯৭২-৭৪ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী গেট্রেুর্ড এসএমআরএ, ১৯৭৪-৭৭ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী রূথ এসএমআর, ১৯৭৭-৯৬ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী পেট্রা এসএমআরএ, ১৯৯৭-২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী পীযূষ এসএমআর, ২০০৮-২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী দিপ্তী এসএমআরএ এবং ২০১৭-২০২০ খ্রিষ্টাব্দ সিস্টার মেরী সীমা এসএমআর বিচক্ষনতা ও দক্ষতার সাথে প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ থেকে আজোবধি সিস্টার মেরী সুপ্রীতি এসএমআর নিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

১৯৫৫ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রূপে আত্মপ্রকাশ করে। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়রূপে ১৪ বছর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে অবশেষে ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯ম শ্রেণি চালুর অনুমতি লাভ করে। এসময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন সিস্টার গ্লোরিয়া ভ্যালতোভিয়োস সিএসসি।

তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এ পদে নিয়োজিত ছিলেন। তারপর সিস্টার এলজিয়া আরএনডিএম ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সিস্টার মেরী গেট্রুড এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিস্টার মেরী সুপ্রীতি এসএমআরএ। ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি দায়িত্ব পান।

বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ও সাবেক কারাতে ও শুটিং খেলোয়াড় অনামিকা হক মুক্তা এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। 

 

সংবাদ : রিপন আব্রাহাম টলেন্টিনু

Add new comment

3 + 7 =