বইয়ের ডাকের উদ্যোগে অমর একুশের বইমেলা

২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে গত ৩বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও বই মেলার আয়োজন করেছে চড়াখোলার ‘বইয়ের ডাক' I

গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তুমিলিয়া ইউনিয়নের চড়াখোলা গ্রামে ফাদার উইস্ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই বই মেলা। বই মেলার শুরুটা হয় পবিত্র খ্রিস্টযাগের মধ্যদিয়ে। খ্রিস্টযাগের শেষে স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গণে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বইমেলার উদ্বোধন হয় ফিতা কাটার মধ্যদিয়ে। এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন খ্রীষ্টীয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ও সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর সম্পাদক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু, কালিগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী রোজারিও, তুমিলিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আবু বক্কও বাক্কু, আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশীদ টিপুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অতিথিবৃন্দ ও আপামর জনগণ দলে দলে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। এরপর থাকে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিবৃন্দদেও আসন গ্রহণ ও বক্তব্য প্রদান। আসন গ্রহণ পর্বে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে তাদেও সামনে এনে আসন দেয়া হয় ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধা অরুণ কস্তা, বরুণ কস্তা, আদম  ও  রিচার্ড গমেজ এবং নাগরী ধর্মপল্লীর সন্তোষ রড্রিক্স।

বইয়ের ডাক এর আহ্বায়ক প্রণব কস্তা প্রারম্ভিক বক্তব্যে  ৫২’র ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, ভাষার গুরুত্ব, বইয়ের ডাকের কর্মকাণ্ডের কথা সকলের কাছে তুলে ধরেন।

সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর সম্পাদক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বইয়ের ডাকের এমন ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ পাবার যোগ্য। তাদের এমন কার্যক্রম আমাদের সমাজকে বই পড়তে আরো বেশি উৎসাহিত করবে। বই থেকে আমরা যে আলো লাভ করি তা অন্যের সাথে সহভাগিতা করার মধ্য দিয়ে আমরা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি। বই পড়ার দৈন্যতা থাকলেও বইয়ের ডাকে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়ে আমরা জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে পারি।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী রোজারিও অমর একুশে এই ধরণের ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য যুবকদেরকে ধন্যবাদ জানান। সকলস্তরের মানুষকে বই পড়তে অনুরোধ করেন তিনি।

তুমিলিয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান আবু বক্কর বলেন, আমাদের এলাকায় আমাদের যুবসমাজের এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে আমি সত্যিই খুশি। আমি চাই এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক ও আমাদের সমাজকে আরো সমৃদ্ধ করুক।

হারুনুর রশীদ টিপুও এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং এই বিশেষ অনুষ্ঠানে শরীক হতে পেতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

চড়াখোলা ক্রেডিটের প্রেসিডেন্ট কমল গমেজ বলেন, বইয়ের ডাকের কার্যক্রমকে আরো প্রসারিত করার জন্যে ক্রেডিট সাহায্য করতে সর্বদা

বই মেলার পাশাপাশি থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চড়াখোলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন ধর্মপল্লী ও গ্রামের শিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করে। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে চড়াখোলা স্কুল মাঠের প্রাঙ্গণে জাগে প্রাণের স্পন্দন।

এবারের মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনীর বই নিয়ে পসরা সাজায় মোট ৮টি স্টল। তবে ছোটদের বই অনেকেই খুঁজতে থাকে, যার ঘাটতি ছিল এই মেলায়। আয়োজক বইয়ের ডাক ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেণ।

উল্লেখ্য ‘বইয়ের ডাক’একটি আন্দোলন কোন সংগঠন নয়। এর সাথে জড়িত যারা তারা সবাই বইসেবক।

Add new comment

3 + 6 =