অনুপ্রেরণার গল্প

অনুপ্রেরণার গল্প

কার্মেল সন্ন্যাস সংঘের সভ্যা

বালক-যীশুর ভক্তা তেরেজা

বালক যীশুর ভক্তা ভেরেজা-র জন্ম ফ্রান্স দেশে, আলাঁসোঁ শহরে, ১৮৭৩ সালে। তিনি ছিলেন মাতাপিতার হাসিখুশী আদুর মেয়ে। তাঁর বয়স যখন চার বছর, তখন তাঁর মা মারা যান। এরপর প্রায় আট বছর ধরে তাঁর মন অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। দশ বছর বয়সে তিনি তিন মাস ধরে এক কঠিন অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত হন। মা মারীয়ার মূর্তির সামনে একান্ত প্রার্থনা ক'রে তিনি অলৌকিক ভাবে আরোগ্য লাভ করেন। তাঁর দু'জন বোন পলিন ও সেলিন ভিডিয়ো শহরে-স্থিত কার্মেল মঠে যোগদান করেছিলেন। পনেরো বছর বয়সে তেরেজা ধর্মপালের কাছ থেকে বিশের অনুমতি পেয়ে তাঁর বোনদের আশ্রমে যোগদান করেন। সেই যে-দিন তিনি আশ্রমে প্রবেশ করেছিলেন, ন'বছর পরে তাঁর মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত তিনি কখনো সেই চৌহদ্দী ছেড়ে আর বেরিয়ে আসেননি। সকলের অজান্তে সাধারণ আশ্রম-জীবন কাটালেন তিনি; ধর্মপ্রচার কার্য, দরিদ্র-সেবা, অসাধারণ কোন কিছুই করলেন না, তবু তাঁর মৃত্যুর পঁচিশ বছরের মধ্যে তাঁর নাম সারা জগতে ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর জীবন-সরলতার মধ্য দিয়ে তিনি সিদ্ধিলাভের নতুন পথ – এক “ক্ষুদ্র পথ” – আমাদের দেখিয়ে গেছেন : ঈশ্বর-সান্নিধ্য লাভ করতে হলে অদ্ভূত কোন অলৌকিক ক্ষমতার দরকার নেই, শুধু চাই দৈনন্দিন কাজে যীশুর কাছে শিশুসুলভ সরল আত্মসমর্পণ। তিনি নিজেকে “যীশুর ক্ষুদ্র পুষ্প” বলে ডাকতেন। তিনি বলতেন: “ভাবসমাধির চেয়ে গোপন ছোট আত্মত্যাগ-কর্মের একঘেয়েমি, একজন মানুষকে খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত করার চেয়ে ভালবাসার জন্যে মাটি থেকে একটি পিন তুলে নেওয়া বেশী পছন্দ করি আমি।" তেরেজা আশ্রম-বদ্ধ জীবন কাটিয়েছেন, তবুও তিনি হয়ে উঠেছেন মিশনারী অর্থাৎ সুদূর দেশে ধর্মপ্রচারকদের স্বর্গীয় প্রতিপালিকা, কারণ নিজের জীবন-চর্যায় তিনি দেখিয়ে গেছেন : আন্তরিক প্রার্থনা ও আত্মত্যাগ, মানসিক ও শারীরিক দুঃখকষ্টের পুণ্যফলে কেমন ক'রে অন্য মানুষকে যীশুর চরণে আনা যায়। তিনি বলতেন: “আমি খ্রীষ্টমগুলীর হৃদয়ে থেকেই শুধু ভালবেসে যাব।”

#RVApastoralcare

#RadioVeritasAsia

#BRBC

#Banideepti

#অনুপ্রেরণার গল্প#ক্ষুদ্র পুষ্প তেরেজা#কার্মেল সমাজ#Saint of the day#society of the little flower

#teresarozario

Add new comment

14 + 1 =