পোপ ফ্রান্সিস, কভিড-১৯, মহামারির দিকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী রেখে বলেন

 “সংকটময় দিনগুলোতে অনেক ডাক্তার, নার্স, প্রশাসক, ঔষুধ প্রস্তুতকারি, যাজক ও জনগণ বৈরি পরিবেশের মধ্যে প্রশংসার অপেক্ষায় না থেকে তাদের সেবার হাত প্রসারিত করেছেন- যা প্রশংসানীয়।তিনি বলেন, “আমাদের সামনে র্দশ্যমান হয়ে ওঠা অনুমান ও ধারণাগুলো যে অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করছে তাতে বুঝতে সাহায্য করছে যে, আমরা কতো দুর্বল এবং আমাদের বুদ্ধিসত্বা কতো সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে।

পোপ আক্ষেপ করে বলেন, “অনেকে পেশা হারিয়েছেন, অনেকে প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং দৈনন্দিন চাওয়া পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণগুলো চোখের সামনে দিগন্ত উন্মুচন করে আমাদের বলে দিয়েছে যে- আমরা এমন একটা সময়ের অপেক্ষায়ই ছিলাম।তিনি জোড়ালো ভাষায় বলেন, “এখন এটা একটা উপযুক্ত সময় এবং সবাই এখন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমাদের দায়িত্বগুলো একে অন্যের জন্যে এবং বিশ্বের জন্যে ভাগাভাগী করে নিতে পারি।তিনি আরো বলেন, “যতোক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিবেশীর প্রতি, মানুষের প্রতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে আমাদের দায়িত্ব সর্ম্পকে অবগত না হই, ততোক্ষণ সংকট চলতেই থাকবে।
পোপ ফ্রান্সিস বলেন, “পুরুষ এবং নারী হিসেবে দায়িত্ব এবং অঙ্গীকারের মোট কথা হলো, আমরাও বিশ্ব মানব গোষ্ঠীর একটি অংশ। মহামারি এবং বাধ্যতামূলক সামজিক দূরত্বের কারণে আমরা যতোই আলাদা অবস্থায় থাকি না কেনো- প্রভুর বাণী আমাদের অনবরত ভালোবাসার কার্যক্রমের কথাই বলে। তিনি একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষকে ইংগীত করে বলেন, “যে সব সামর্থবান মানুষ সব জেনেও অনড়, অসহযোগী এবং পকেটে হাত গুটিয়ে থাকেন তাদের জন্য গরিবের প্রতি হস্ত প্রসারিত করুন,” বাইবেলের এই বাণী একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, পোপ বলেন, “অনেক হস্ত অন্যের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের জন্য বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত, এমনকী শিশুরাও বাদ নেই, যারা দরিদ্রতা ও মৃত্যু বুনে বুনে চলেছে, যারা আইন বানিয়ে নিজেরা পালন করেন না, তাদের জন্যও এই চ্যালেঞ্জ।
পোপ ফ্রান্সিস তাঁর বাণীর শেষভাগে এসে পুনরায় বেন সিরাক রচনাবলীর বাণী স্মরণ করে বলেন, “আমরা যা কিছু করি না কেনো, সেটার একটা উদ্দেশ্য থাকতে হবে। আর উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসা। এটাই আমাদের যাত্রাপথের শেষ কথা এবং কোনো কিছুই যেনো এই উদ্দেশ্য থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে না পারে।পোপ তাঁর বাণী শেষ করতে করতে বলেন, “আমাদের একটা হাসিও গরিবদের মধ্যে ভালোবাসার চিহ্ন হতে পারে। এমনকী যারা নীরবে মানুষের মধ্যে সেবাদান করে যাচ্ছেন, তাদের প্রসারিত বাহুর সাথে একটু হাসি সেবাকে আরো জীবন্ত করে তোলে- এবং তা প্রমাণ করে- খ্রিস্টের শিষ্য হিসেবে তারা অনুপ্রাণীত।

Add new comment

6 + 1 =