এশিয়ায় ক্যাথলিক মণ্ডলীর জন্য আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিপীড়ন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অধ্যয়ন বিভাগের জুনিয়র প্রভাষক ড. চুং পুই ই এফএবিসির (ফেডারেশন অব এশিয়ান বিশপস' কনফারেন্স) ১২তম প্লেনারি অ্যাসেম্বলিতে এ সতর্কবার্তা দেন।
দিনের কার্যসূচির সূচনায় অধিবেশনের সভাপতি আর্চবিশপ বিজয় এন. ডি'ক্রুজ, ওএমআই বলেন, আগের দিন কার্ডিনাল মারিও গ্রেচ এবং ফা. জিয়াকোমো কস্তা, এসজে-এর উপস্থাপনা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—একটি সিনডাল মণ্ডলীর সূচনা হয় ব্যক্তিগত মন-পরিবর্তনের মাধ্যমে।
মণ্ডলীর ক্রিয়াকর্ম শুধু অভ্যন্তরীণ নবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ন্যায়বিচার, শান্তি এবং সৃষ্টিজগতের সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করাও এর অন্যতম দায়িত্ব।
সিনডাল বাস্তবায়নের পর্যায়ে স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর কাজ কেবল প্রশাসনিক প্রতিবেদন তৈরি করা নয়; বরং নিজেদের জীবনে ঈশ্বর কীভাবে কাজ করছেন, সেই অনুগ্রহের গল্প বিশ্বজনীন মণ্ডলীর সঙ্গে ভাগাভাগি করা।
বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার প্রতি বিশ্বস্তভাবে সাড়া দিতে হলে মণ্ডলীকে শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই চলবে না, বরং আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ গড়ে তুলতে হবে।
মানুষের কথা শোনা মানে কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলা নয়। বরং একজন বিশপ বিশ্বাসীদের মধ্যে পবিত্র আত্মার কার্যক্রম উপলব্ধি করেই শিক্ষা প্রদান, পরিচালনা ও পবিত্রকরণের দায়িত্ব পালন করেন।
ফা. কস্তা বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি এশিয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এশিয়ার বহু দেশে ক্যাথলিকরা সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বসবাস করেন।
জার্মানিভিত্তিক ক্যাথলিক মিশন সংস্থা মিসিও মিউনিখ বলেছে, আন্তর্জাতিক মন্ডলীর অংশীদারিত্ব কেবল অর্থায়ন বা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নয়, বরং পারস্পরিক শ্রবণ, শেখা এবং একসঙ্গে পথচলার মানসিকতার মধ্য দিয়েই দৃঢ় হয়।
এই ১২তম অধিবেশন সভার মূল প্রতিপাদ্যই হলো সমন্বিত মন-পরিবর্তন (Synodal Conversion)। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সকল মানুষের জন্যও একটি আহ্বান।"